টিউটোরিয়াল ভিডিও বানানো: অনলাইনে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন কাজ

অনলাইনে আয় করার বিভিন্ন দিকগুলোর মাঝে ভিডিও তৈরি করা বেশ জনপ্রিয়। কোন ধরনের ভিডিও তৈরি করবেন তা নিয়ে যদি দ্বিধা থাকে, তাহলে অনলাইন ট্রেন্ড অনুসরণ করে দেখুন কোন ধরনের ভিডিওর প্রচলন বেশি, কোন শ্রেণির ভিডিও বেশি দর্শক টানছে। কয়েকদিন গবেষণা করবার পর খুব সম্ভবত আপনি যে উত্তরটি পাবেন সেটি হলো টিউটোরিয়াল ভিডিও।

অনলাইন জগতে এখন টিউটোরিয়াল ভিডিওর চাহিদা তুঙ্গে; Image Source: ytimg.com

অনলাইন জগতে এখন টিউটোরিয়াল ভিডিও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। যেকোনো বিষয় শিখবার জন্য মানুষ এখন প্রচলিত প্রশিক্ষণ কোর্সের চেয়ে অনলাইন টিউটোরিয়ালকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সফটওয়্যার ব্যবহার, প্রোগ্রামিং, ভিডিও এডিটিং, ডিজাইনিং কিংবা গণিত, পদার্থবিজ্ঞানের জটিল জটিল অংকের জন্যও মানুষ এখন টিউটোরিয়াল ভিডিওতে অধিক আগ্রহী। তাই টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরিতে দক্ষতা থাকলে অনলাইনে অর্থ আয় কঠিন কিছু নয়।

টিউটোরিয়াল ভিডিওটিকে কীভাবে অধিক দর্শকপ্রিয় করে তোলা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করবো আজ।

মানানসই টপিক নির্ধারণ

আপনার টপিকটি ভিডিও টিউটোরিয়াল নির্মাণের জন্য মানানসই কিনা তা যাচাই করুন। যেকোনো টপিকে ভিডিও টিউটোরিয়াল তৈরি করলে তাতে আপনি যথেষ্ট পরিমাণ ফুটেজ ব্যবহার করতে পারবেন না। তাতে করে টিউটোরিয়ালটি দর্শকদের জন্য বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, “কীভাবে একজন শেয়ারবাজার কনসাল্ট্যান্ট নিয়োগ করবেন”, এই বিষয়ে একটি টিউটোরিয়াল বানানো যেতে পারে। তবে ভিডিওতে দেখানোর মতো আপনার হাতে কিছুই থাকবে না। কেবল স্থিরচিত্রের উপর টেক্সট বসাতে হবে। তাই ভিডিও টিউটোরিয়ালের জন্য এমন টপিক বাছাই করুন যাতে ভিডিওতে দেখানোর মতো কনটেন্ট রয়েছে। যেকোনো সফটওয়্যারের ব্যবহার, গেমিং, হার্ডওয়্যার বিষয়ক জটিলতার মতো কিছু বিষয় ভিডিও টিউটোরিয়ালের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

যথাসম্ভব ছোট রাখুন

আপনার টিউটোরিয়ালটি যেন দীর্ঘ না হয় সেদিকে লক্ষ রাখুন। বেশি দৈর্ঘ্যের টিউটোরিয়াল দেখতে দর্শকরা পছন্দ করেন না কিংবা শুরুতেই ভাবতে শুরু করেন যে টিউটোরিয়ালটি জটিল হয়ে থাকতে পারে। একই বিষয়ের উপর একাধিক টিউটোরিয়ালের মাঝে সবচেয়ে কম দৈর্ঘ্যের টিউটোরিয়ালটি বেছে নেয়ার একটি প্রবণতাও রয়েছে দর্শকের মাঝে।

অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো বাদ দিয়ে ভিডিও যথাসম্ভব ছোট করুন; Image Source: diyphotography.net

টিউটোরিয়াল ভিডিওর নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের কোনো নিয়ম নেই। তবে চেষ্টা করতে হবে যেন ৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করা যায়। একটু জটিল কোনো বিষয় হলে সেটি সর্বোচ্চ ১০ মিনিটে শেষ করা উচিৎ। তবে যদি আপনার ভিডিওটি এমন কোনো বিষয়ে হয় যেটি বেশ জটিল, বড় এবং কোনোভাবেই ১০ মিনিটে শেষ করা সম্ভব নয়, তাহলে সেটি কয়েক খণ্ডে ভাগ করে করুন।

প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করুন

ভিডিও টিউটোরিয়ালের প্রধান লক্ষ্যই হলো একটি কঠিন বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করা যেন সেটা দেখে মানুষ শিখতে পারে। তাই ভিডিও টিউটোরিয়ালের ভাষা হতে হবে সহজ ও প্রাঞ্জল। ছোট ছোট বাক্যে, সহজ ভাষায় কথা বলতে হবে যেন কারো নিকট তা দুর্বোধ্য না ঠেকে।

এছাড়াও আরেকটি বিষয়ে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি আর সেটি হলো পরিভষার ব্যবহার। টিউটোরিয়াল এমন কোনো পারিভাষিক বা টেকনিক্যাল শব্দ ব্যবহার করবেন না যেটি দর্শকের বুঝতে সমস্যা হবে। যদি ব্যবহার করেনও, তাহলে সে শব্দটির অর্থ বা সংজ্ঞা বলে দিতে হবে।

সঠিক সরঞ্জাম ব্যবহার করুন

টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে ভিডিওর অডিও এবং ভিডিও কোয়ালিটি নিয়ে অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বাজে ভিডিও কোয়ালিটি কিংবা অস্পষ্ট অডিওর কারণে একটি ভালো কনটেন্টের টিউটোরিয়ালের বারোটা বেজে যেতে পারে। তাই ভিডিও ও অডিও ধারণের জন্য পেশাদার সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।

সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সরঞ্জাম ব্যবহার করুন; Image Source: ikancorp.com 

মোবাইলে শ্যুট করেও একটি টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করে ফেলা সম্ভব। কিন্তু তাতে কোয়ালিটি ভালো হবে, বিশেষ করে অডিও। একটি মাইক্রোফোন ভিডিওতে আপনার স্বরে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে এবং তা করতে পারে শ্রুতিমধুর। অন্যদিকে আপনার যদি কথা বলায় জড়তা থাকে কিংবা কথায় আঞ্চলিক টান থাকে, তাহলে অবশ্যই অন্য কাউকে দিয়ে ভয়েস ওভার করিয়ে নিতে হবে। মনে রাখবেন, অডিও যথেষ্ট শ্রবণযোগ্য না হলে দর্শক আপনার পুরো ভিডিওটি দেখবে না।

ভালো করে প্রস্তুতি নিয়ে নিন

ভিডিও শ্যুট করা কিংবা ভয়েস ওভার রেকর্ড করার পূর্বে ভালো করে নিজেকে প্রস্তুত করে নিন। শ্যুটিংয়ের মাঝে নিজেকে প্রস্তুত করতে গেলে তা ভালো ফলাফল আনবে না।

অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন নয়

টিউটোরিয়াল হলো শিক্ষামূলক ভিডিও। এরূপ ভিডিও একমনে দেখতেই দর্শক পছন্দ করবেন। অধিক বিজ্ঞাপন ব্যবহার দর্শকের মনঃসংযোগ ব্যাহত করবে। এতে করে দর্শক বিরক্ত হয়ে অন্য ভিডিওতে চলে যেত পারেন। তাই বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলেও তা সীমিত ও সহনীয় মাত্রায় করুন।

পোস্ট প্রোডাকশনে জোর দিন

পোস্ট প্রোডাকশন অর্থাৎ এডিটিংয়ে জোর দিন; Image Source: quoracdn.net

স্ক্রিপ্ট লেখা, শ্যুটিং কিংবা ভয়েস ওভার সফলভাবে ধারণ করার পরও টিউটোরিয়াল তৈরির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক বাকী থাকে, সেটি হলো পোস্ট প্রোডাকশন। ভিডিও শ্যুট করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ভিডিও এডিট করাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অত্যন্ত অ্যাডভান্স লেভেলের না হলেও আপনার মৌলিক এডিটিং জ্ঞান থাকা চাই। একটি সাদামাটা ভিডিওকেও এডিটিংয়ের মাধ্যমে চমকপ্রদ করে তোলা যায়। ভিডিওতে কোথাও জুম করার প্রয়োজন হলে জুম করুন, বিভিন্ন ইফেক্ট এবং ট্রানজিশন ব্যবহার করুন, গ্রাফিক্স ব্যবহার করে পপ-আপ টেক্সট তৈরি করুন, জাঁকজমকপূর্ণ শিরোনাম ও লোগো ব্যবহার করুন। এছাড়াও ভিডিওতে কালার গ্রেডিং করে দেখতে আরো সুদৃশ্য করে তুলতে পারেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে মানানসই মিউজিকের ব্যবহার ভিডিওটিকে দেবে অন্য মাত্রা।

ফিচার ছবি- ispringsolutions.com

Written by MS Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কোডিং করে ঘরে বসে আয়

সফলভাবে ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতে যে কৌশলগুলো অবলম্বন করবেন