পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে সফল সোশ্যাল মিডিয়া কনসালটেন্ট হোন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সামাজিকতার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্তমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখছে। দিন কে দিন ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, ইউটিউব, পিন্টারেস্ট, লিঙ্কডইনের মতো যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে হাতিয়ার বানিয়ে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এর কারণ সারা বিশ্বে প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সাথে জড়িত। ফলে এই মাধ্যমটি দ্বারা ব্যবসা-প্রচারণার কাজ করা সহজ।

কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার পাশাপাশি পণ্যটির ক্রয়-বিক্রয়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সামাজিক মাধ্যম দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই নতুন মাধ্যমটিকে কেন্দ্র করে তাই চাকরির বাজারে নতুন একটি পদের সৃষ্টি হয়েছে। সোস্যাল মিডিয়া কনসালটেন্ট নামের এই পদে মানুষের এখন ব্যাপক আগ্রহ। এই ক্ষেত্রটিকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ে উঠেছে তেমনি কন্সালটেন্ট হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংও করা যায়। 

একজন সোস্যাল মিডিয়া কন্সালটেন্টের নানামুখী কাজকর্ম; image source: Brandignity.com

সামাজিক মাধ্যমে পারদর্শী হলেই মার্কেটপ্লেসে আপনার কদর বেড়ে যাবে তা ভাববেন না, আপনাকে আপনার কাজে হতে হবে অনন্য এবং জেনে নিতে হবে একজন সোস্যাল মিডিয়া কন্সালটেন্টের কাজ। সহজ কথায় বললে একজন কনসালটেন্টের কাজ পরামর্শ দেওয়া। তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সোস্যাল মিডিয়া দ্বারা পরিচালিত সকল কাজের দেখাশোনা একজন কনসালটেন্ট অথবা কনসালটেন্সি ফার্মকে করতে হয়।

যেমন- নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠানটিকে সামাজিক মাধ্যমে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করা, প্রতিষ্ঠানটির হয়ে ক্যাম্পেইন তৈরি করা, প্রচারণার জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি করা, ওয়েবসাইটে ট্রাফিক সরবারহ করা, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, বিক্রয় বৃদ্ধি করা -সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুনামকে শীর্ষে রাখা। 

কিছু জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; image source: Entrepreneur.com

অর্থাৎ আপনি একজন মিডিয়া কনসালটেন্ট হলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হয়ে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিতে হবে, পোস্টে কমেন্ট আসলে তার উত্তর দিতে হবে, কোনো গ্রাহক পণ্য সম্পর্কে আগ্রহী থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে, বিচিত্র আধেয় বিশিষ্ট বিজ্ঞাপন তৈরি করে বুস্ট করতে হবে এবং এরকম ক্যাম্পেইন তৈরি করতে হবে যা ক্রেতাদের প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। 

সুতরাং, যারা ভেবে থাকে স্বনির্ভর হওয়া মানে বাসায় বসে আরাম করে কাজ করা তাদের ধারণাটি বদলাতে হবে। ৫-৭ ঘণ্টা অফিস না করলেও কাজের চাপ এ সেক্টরে প্রচুর। আর আপনি যদি মাত্রই এই সেক্টরে প্রবেশ করেন, তবে উল্লেখিত সব কাজ একাই সামলাতে হবে। পরবর্তীতে কম বেশি আয় হলে কর্মী নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে এ ব্যবসার প্রসার করতে পারেন।

সোস্যাল মিডিয়া কন্সালটেন্সি মূলত মার্কেটিংয়ের অংশ; image source: Bmsgroupglobal.com

আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিষয়ে দক্ষ হতে পারেন তবে মিডয়া কনসালটেন্টের কাজটি মার্কেটিং ঘেষা। আপনি আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে কাজ করবেন তা ঠিক, তবে মার্কেটিংয়ের খুঁটিনাটিও জানতে হবে। একজন সফল মিডিয়া কন্সালটেন্ট হতে হলে যে ৫টি বিষয় নজরে রাখতে হবে তা হলো-

খোঁজ দ্যা সার্চ!

কোনো নতুন ব্যবসার সাথে নিজেকে জড়াতে চাইলে প্রথমে সেটার খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে হবে। কোনো ক্লায়েন্টের কাজ করার আগে তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে হবে। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যপারে খোঁজ রাখতে হবে। 

লিঙ্কডইনের সাথে যুক্ত হয়ে যান। এতে করে ক্লায়েন্টদের সাথে পরিচিতি বাড়বে সাথে সাথে এ খাতে যুক্ত অন্য কনসালটেন্টদের চিনতে পারবেন।

আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও তৈরি

আপনার পোর্টফোলিও দেখেই ক্লায়েন্ট আপনাকে কাজ দিবে। শুধুমাত্র আপনি এ কাজে আগ্রহী বলেই কাজ পাবেন না, আপনাকে দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। প্রথমদিকে ক্লায়েন্ট জোগাড় করা কিছুটা কঠিন কিন্তু কাজের সুযোগ পেলেই দুয়ের বেশি ক্লায়েন্টের কাজ গ্রহণ করবেন না। কিছুদিন কাজ করে অভ্যস্ত হয়ে গেলে কাজটিকে আর কঠিন মনে হবে না। নিজের কাজকর্মের একটি প্ল্যান তৈরি করতে পারেন ফলে কাজের চাপ বেড়ে গেলেও সেটি অনুসরণ করে কাজ চালানো যায়।

ওয়ার্কস্টেশন

বাসায় বসে কাজ করতে চাইলেও কাজের জন্য আলাদা একটি জায়গা তৈরি করে নিন। কারণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা ছাড়াও মিডিয়া কনসালটেন্সির ব্যাপ্তি বৃহৎ। ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগের সময়-সূচী নির্ধারণের জন্য হলেও আপনার একজন সহকারী থাকা আবশ্যক। ফলে ঘরোয়া পরিবেশে থেকেও একটি ওয়ার্কস্টেশন গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও কিছু অ্যাপের নাম উল্লেখ করা হলো যা আপনার কাজ গুছাতে সাহায্য করবে। এগুলো হলো-

  • DUE- এই অ্যাপটি দ্বারা হিসাবের রশিদ বানানো এবং মুদ্রণ করা যায়। এছাড়াও পেমেন্ট রিমাইন্ডার, শিডিউল তৈরি, সময়ের হিসেব রাখার মতো কাজগুলো এটির সাহায্যে করা যায়।
  • GetResponse- কাস্টমার খুঁজে দিতে এই অ্যাপটি সাহায্য করে। এ কাজটি এটি করে থাকে ইমেইল মার্কেটিং অটোমেশন, ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ ওয়ার্ক ফ্লো এবং বেশ কিছু দরকারী অ্যাপের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে। 
  • Oktopost- কাজ অনুযায়ী ক্যালেন্ডার বানানো, নির্দেশ আরোপণ,  সম্পদের তালিকা ও হিসাব রাখা, মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, বুস্ট বাজ করা প্রভৃতি কাজ করে থাকে।
  • CoSchedule- সোস্যাল মিডিয়ার কৌশলগুলো পরিকল্পনা করতে ও বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করে এবং মিডিয়া চ্যানেলের আধেয় পরিবর্তন করতে পারে।
  • Mention- সোস্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটে আপনার প্রচার করা পণ্যটি কতবার খোঁজা হয়েছে তা ট্র্যাক করতে পারে। 
যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তি সক্রিয় না হোলে অন্যদের সাথে নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে না; image source: digitaltrends.com

যেটার প্রচার সেটার অনুশীলন

কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে একজন ক্লায়েন্টের দৃষ্টি থেকে চিন্তা করুন। নিজের অনুশাসন নিজে মেনে না চললে কোনো ক্লায়েন্ট আপনার প্রতি আস্থা রাখতে পারবে না। এছাড়াও আপনার সম্ভাব্য ক্লায়েন্টরা আপনার সামাজিক মাধ্যমের পেজগুলোর উপরও নজর রাখবে। আর আপনি যদি সামাজিক মাধ্যমে নিজেই সক্রিয় না থাকেন তবে আপনার ব্যপারে তারা প্রথমেই একটা ভুল ধারণা পাবে। 

সম্ভাব্য ভুলগুলো এড়িয়ে চলা

কাজ করতে গেলে ভুল হবে আর এটিই স্বাভাবিক। তবে সাধারণ কিছু ভুল যা সকলে করে থাকে তা সম্পর্কে অবগত থাকলে কাজ করা সহজ হবে। এরকম কিছু ভুল তুলে ধরা হলো-

  • হীনমন্যতায় ভোগা এবং নিজের কাজের মূল্য দিতে না পারা- ফলে বড় বড় কোম্পানিগুলোর সাথে কাজ করতে অনেকেই দ্বিধা বোধ করে।
  • ক্লায়েন্টদের সাথে লিখিত চুক্তি না করা- এটি করার কারণে অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে পেমেন্ট পায় না।
  • ক্লায়েন্টকে কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা না দেওয়া- অনেকেই সংক্ষিপ্ত আকারে নিজেদের কাজ সম্পর্কে ক্লায়েন্টদের বুঝিয়ে দিতে চায় এতে করে শেষে ক্লায়েন্ট-কন্সালটেন্টের মাঝে তিক্ত সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।
  • দুর্বল যোগাযোগ প্রক্রিয়া- ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ দৃঢ় না হোলে আপনার কর্মপ্রবাহও দুর্বল হয়ে পরবে ফলে যথাযোগ্য সুনাম অর্জন করতে পারবেন না।

যে ১০ টি গুণ ব্লগার হিসেবে আপনাকে করে তুলবে অনন্য

৭টি উপায়ে অনলাইন শিক্ষক হিসেবে আয় করুন ঘরে বসে