৭টি কৌশল যা আপনার ভিডিও এডিটিং দক্ষতাকে করবে আরও উন্নত

ভিডিও এডিটিং এর দারুণ সব কৌশল দেখে আগ্রহ নিয়ে অনেকেই ভিডিও এডিটিং শেখেন আজকাল। আপনি একজন দক্ষ ও সৃজনশীল এডিটর হবেন কি হবেননা, তা একান্তই নির্ভর করবে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা ও কলাকৌশল জ্ঞানের উপর। অবশ্যই স্টোরি এবং কী দেখাতে চাচ্ছেন তা একজন এডিটর মাথায় রাখবেন। সেই সাথে এই ৭টি সহজ কৌশলের ব্যবহার আপনার এডিটিং এর কাজে এনে দেবে অন্যরকম মাত্রা-

১. শর্টকাটগুলো শিখে ফেলুন

ভিডিও এডিটিংয়ে কীবোর্ডের শর্টকাটগুলো শেখা ও তা নখদর্পণে রাখা হচ্ছে প্রাথমিক জ্ঞানের মত। আপনি যত আপনার এডিটিং এর কীবোর্ড ও টুলগুলো জানবেন আপনার কাজ তত সহজ ও কম সময়ে হবে। আর আপনি অডিও-ভিজ্যুয়াল নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট ও করতে পারবেন বেশি সময় নিয়ে।

ভিডিও এডিটিং এর দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব সহজ কিছু কৌশল অবলম্বন করেই, Image source: vidtid.net

২. মিউজিক ও এসএফএক্স যোগ করতে ভুলবেন না

শর্টকাট শেখার মধ্যে দিয়ে আপনার এডিটিং দক্ষতা এগিয়ে গেলে আরও এক ধাপ এগুবে যখন আপনি আপনার ভিডিওতে দক্ষভাবে মিউজিক ও সাউন্ড ইফেক্টের ব্যবহার করতে জানবেন। মিউজিকের ব্যবহার আপনার এডিট করা ভিডিওটিতে আরও গভীরতা আনবে এবং আরও বেশি লেয়ার তৈরী করবে। মিউজিক এড করার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে মিউজিক যেন ভিজ্যুয়ালের সাথে মানানসই হয়।

মিউজিকের বিটের সাথে মিল রেখে যদি ভিজ্যুয়াল কাটেন, আপনার এডিট করা ভিডিওটি অন্যমাত্রা পাবে এবং দর্শকের মনে গেঁথে থাকবে। প্রাকৃতিক সাউন্ডও আপনি ভিডিওতে রাখতে পারেন দর্শককে বাস্তব অনুভূতি এনে দিতে। সাউন্ড ইফেক্ট ও মিউজিকের মিক্সিংয়ের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন ভিডিও এডিটর হিসেবে আপনি হয় উঠতে পারেন অনন্য।

ভিডিও এডিটিং কীবোর্ডের শর্টকাটগুলো শিখেই বাড়াতে পারেন দক্ষতা, Image source: data:image/jpeg;base

৩. স্পিড র‍্যাম্পিং করে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন

সাধারণত একশন সিকোয়েন্সে কোনো ঘটনা বা মুভমেন্টে জোর দেওয়ার জন্য স্পিড র‍্যাম্পিং করে স্পিড বাড়ানো কমানো হয়। যেমনটা আমরা দেখেছি হলিউড মুভি থ্রি হানড্রেড, ইনসেপশন, ট্রান্সফর্মার বা সেভিং প্রাইভেট রায়ানে। অনেক সময় সিকোয়েন্সের গ্যাপ পুরণেও স্পিড র‍্যাম্পিং করা হয়।

ধরুন আপনার ক্লিপ আছে ৩.৫ সেকেন্ডের কিন্তু আপনার সিকোয়েন্স তিন সেকেন্ডের। এক্ষেত্রে র‍্যাম্প আপ করে স্পিড বাড়িয়ে দিতে পারেন ক্লিপের। আবার গ্যাপ যদি ক্লিপের চেয়ে বেশি লম্বা হয় তবে স্পিড কমিয়ে দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে স্পিড র‍্যাম্পিং যেন ফুটেজে মানানসই ও বাস্তব লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৪. সাক্ষাৎকারের ভিডিও নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলে কেটে বেড়িয়ে যান!

যখন কোনো ইন্টারভিউ-এর ভিডিও এডিট করছেন, প্রায়ই এমন হতে পারে যে সাক্ষাতকারদাতাকে দেখাতে দেখাতে ভিডিওটি একঘেয়ে লাগছে। তখন কি করবেন? সাক্ষাৎকারদাতাকেই অডিওতে রেখে কাট এওয়ে দিয়ে অন্য কোনো ভিজ্যুয়াল দেখাতে পারেন। সাক্ষাৎকারদাতার চারপাশ বা সম্পর্কিত ভিন্ন কোনো দৃশ্যও। অনেক সময়ই বক্তা তোতলান বা আটকে যান। এসব ক্ষেত্রেও কাট করে ইনসার্ট বা কাট এওয়ে দিয়ে পুষিয়ে দেওয়া যায়। আবার বক্তা যখন শক্তিশালী  বা প্রভাব রাখার মতো কোনো কথা বলছেন, কাটএওয়ে থেকে ফিরে আসতে পারেন বক্তার ভিজ্যুয়ালে।

হলিউড মুভি ইনসেপশনেও ব্যবহার করা হয়েছে স্পিড র‍্যাম্পিং,Image source: data:image/jpeg;base

৫.নাটকীয়তা আনুন ভিজ্যুয়ালের ব্যবহারে

আপনি কাট কভার দিতে, অন্য লোকেশনে যাওয়া দেখাতে বা নিছক ভিডিওকে প্রাকৃতিকভাবে ফ্লো দিতে চাইলে অনেক ফুটেজ যুক্ত করতেই পারেন। তবে তা দর্শকের দেখায় খুব একটা নাটকীয়তা তৈরী নাও করতে পারে। অডিও আর ভিজ্যুয়ালের মধ্যে ড্রামা আনার জন্য দর্শকের দেখায় একটা স্পেস দিতে হবে। যেন দরর্শক নিজেই ভাবতে পারেন কি শুনলাম আর কি দেখলাম!

তাই ভিজ্যুয়ালে পরিবর্ত আনুন, লোকেশন পাল্টান কিন্তু অডিও চলমান রাখুন; ভিজ্যুয়ালের সাথে মিউজিক বা সাউন্ড বাড়িয়ে কমিয়ে। এভাবে আরও সৃজনশীল নাটকীয়তা যুক্ত করুন আপনার এডিটিং কৌশলে।

সাক্ষাৎকারের ভিডিও এডিট করতে ব্যবহার করতে পারেন কাটএওয়ে, Image source: amazonaws.com

৬. খারাপ ফুটেজে স্টেবিলাইজ করে পালটে দিন পাশা!

জার্ক বা কম্পনযুক্ত ফুটেজ আপনার ভিডিও এডিটিংয়ের সব দক্ষতাকে একদম মাঠে মেরে দিতে পারে। কিন্তু এই দুঃস্বপ্ন থেকে পরিত্রানের জন্য আপনি ভিডিওটিকে স্টেবিলাইজ করতে পারেন নানা স্টেবিলাইজিং প্লাগ ইনস বা টুল দিয়ে। এগুলো অনেকসময় আপনার এডিটিং সফটওয়্যারেই বিল্ট ইন থাকে। আবার আপনি আলাদা টুলও ব্যবহার করতে পারেন।

এডোবি প্রিমিয়ার/আফটার এফেক্টসের র‍্যাপ স্টেবিলাইজার এবং ফাইনাল কাট এক্স এর স্মুদ ক্যাম খুব ভালো মানের স্টেবিলাইজার। এছাড়া  থার্ড পার্টি প্লাগ ইন হিসেবে রিল স্টেডি খুব ভালো কাজ করে আফটার এফেক্টসে। মোবাইলে ভিডিও স্টেবিলাইজ করার ভালো এপ হচ্ছে ইমালসিও।

৭. সম্ভব হলে করুন রি-ফ্রেম

আজকাল ক্যামেরার রেজ্যুলেশন বেড়েই চলেছে যা একজন এডিটরকে দেয় রিফ্রেম করার বা পুশ-পুল ইফেক্ট দিয়ে আরো চমৎকার কাজ করার সুযোগ। ১০৮০ পিক্সেলই যেহেতু এখন পর্যন্ত ভিডিও রেজ্যুলেশনের সাধারণ আদর্শ মান, তাই টু-কে (2K) বা এর উপরের রেজ্যুলেশনের ক্যামেরাই রিফ্রেমিংয়ে অনেক কাজ করার স্বাধীনতা পাওয়া যায়।

কোনো সংকটকালীন মুহুর্তকে পুশ ইন করে দেখানো যায়। অনেক সময় সাবজেক্টের পজিশন একটু এদিক ওদিক করে সেন্টারে নেওয়া যায় যদি আই-লাইন ঠিক না থাকে। অনেকসময় ক্যামেরা খুব ভালো মানের হলে শট থকে কেটে টু-শটও বের করে নেওয়া যায়।

এডোব প্রিমিয়ারের মত অনেক সফটওয়্যারেই রিফ্রেমিং এর বিল্ট ইন টুল থাকে,Image source:

তবে মনে রাখতে হবে, রিফ্রেমিং কখনই অতিরিক্ত করা যাবেনা। বিশেষত ক্যামেরার রেজ্যুলেশন যদি খুব একটা ভালো না হয়ে থাকে, তবে যত কম করা যায় ততই ভালো। কারণ ঝাপসা বা বাজে রেজ্যুলেশনের ভিডিও খুবই চোখে লাগে।

ফিচার ছবি- premiumbeat.com

Written by Faria Abdullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

৭টি উপায়ে অনলাইন শিক্ষক হিসেবে আয় করুন ঘরে বসে

যে ৫টি ভুল ফ্রিল্যান্সিংয়ে কখনোই করবেন না