তৈরি করুন স্মার্টফোন অ্যাপ আর আয় করুন গুগল প্লেস্টোর থেকে

স্মার্টফোনের বাজারে অ্যান্ড্রয়েড আর আইওএসের রাজত্ব চলছে অনেকদিন ধরেই। এ রাজত্ব টিকে থাকবে সামনেও, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে, এই রাজত্বের একচেটিয়া রাজা যে অ্যান্ড্রয়েড হতে চলেছে, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ক্রিয়াশীল স্মার্টফোনের সংখ্যা ছিল ৩১০ কোটি, যার মাঝে ২৩০ কোটিই ছিল অ্যান্ড্রয়েড! বলা বাহুল্য, অ্যান্ড্রয়েডের সংখ্যাটা ক্রমাগত বাড়ছেই।

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের এই বৈশ্বিক বিপ্লবে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল এক মোবাইল সার্ভিস ও অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ক মার্কেট। সে মার্কেটের নাম ‘গুগল প্লেস্টোর’। অ্যান্ড্রয়েডের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে প্লেস্টোর ব্যবহারকারীর সংখ্যা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যনতুন মোবাইল অ্যাপের চাহিদাও। এই চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন হাজারো তরুণ শুরু করছে প্লেস্টোর সংক্রান্ত চাকরি, ব্যবসা, আর ঘরে বসেই আয় করতে পারছে।

Image Source: cnet.com

ভাবছেন প্লেস্টোর কাজে লাগিয়ে কীভাবে আয় করবেন? মোবাইলের অ্যাপ বানানোটা শিখে নিতে পারলে প্লেস্টোর থেকে আয় করা অত্যন্ত সহজ। চলুন জেনে নিই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ আর গুগল প্লেস্টোরের মাধ্যমে আয়ের কিছু সহজ ও কার্যকর উপায়।

১. অ্যাপ বিক্রয় করা

গুগল প্লেস্টোর থেকে আয়ের সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতিটি হলো আপনার তৈরি করা অ্যাপটি বিক্রয় করা। আপনি আপনার অ্যাপটি সরাসরি প্লেস্টোরের কাছে বিক্রয় করতে পারেন। এতে সুবিধা-অসুবিধা দুইই আছে। সুবিধা হলো, আপনার অ্যাপটি যদি জনপ্রিয়তা না-ও পায়, তথাপি আপনার অর্থ আপনি পেয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, এর মূল অসুবিধা হলো অল্প লাভ। প্লেস্টোরে অ্যাপ বিক্রয় করে খুব বেশি আয় করা যায় না।

তবে, আপনার অ্যাপটি যদি হয় অত্যন্ত চমকপ্রদ হয় এবং এর সার্ভিস যদি ব্যবহারকারীদের নিকট জনপ্রিয়তা পায়, তাহলে সরাসরি প্লেস্টোরে বিক্রয় করার পরিবর্তে অ্যাপটিকে প্রিমিয়াম করে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে, ব্যবহারকারীদের অর্থ খরচ করে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে যার একটা অংশ পেয়ে যাবেন আপনি। মনে রাখা ভালো, অ্যাপের সার্ভিস যদি উন্নত না হয়, তাহলে কেউ সেটি অর্থ খরচ করে কিনবে না।

২. ইন অ্যাপ পারচেজ

ইন অ্যাপ পারচেজের অর্থ হলো কোনো অ্যাপ্লিকেশনের আভ্যন্তরীণ কিছু সার্ভিস বা ফিচার ব্যবহার করতে হলে সেগুলো কিনে নিতে হবে। সরাসরি প্রমিয়াম অ্যাপের চেয়ে ইন অ্যাপ পারচেজ এখন অধিক জনপ্রিয় ব্যবস্থা। প্রধানত গেমিং অ্যাপে এই প্রক্রিয়ায় অর্থ আয় করা সহজ। গেমের কোনো নতুন ক্যারেক্টার, ক্যাশ, নতুন স্টেজ আনলক করা, নতুন ওয়েপন, ইত্যাদি কেনার জন্য অনেক ব্যবহারকারীই অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত থাকেন।

ইন অ্যাপ পারচেজ ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন ফিচার কিনে নিতে হয়; Image Source: idownloadblog.com

অবশ্য সাধারণ অ্যাপেও ইন অ্যাপ পারচেজ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। আপনার অ্যাপটি যদি যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়, তাহলে এর কিছু মৌলিক ফিচার বাদে বাকীগুলো প্রিমিয়াম করে দিতে পারেন। অর্থাৎ, সবগুলো ফিচার ব্যবহার করতে ব্যবহারকারীকে সেগুলো কিনে নিতে হবে।

মনে রাখবেন, প্লেস্টোরের ৯০ শতাংশ অ্যাপই হয়ে থাকে ফ্রি। তাই, অধিক লাভের আশায় নিজের অ্যাপটিতে অতিরিক্ত ইন অ্যাপ পারচেজ ফিচার ব্যবহার করবেন না। তাহলে আপনার অ্যাপের ব্যবহারকারী কমে যেতে বাধ্য।

৩. ইন অ্যাপ অ্যাডভারটাইজিং

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সিংহভাগই প্লেস্টোর থেকে অর্থ খরচ করে অ্যাপ কেনেন না। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীদের বড় অংশই ফ্রি অ্যাপ পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে প্রিমিয়াম অ্যাপ বা ইন অ্যাপ পারচেজে অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। কিন্তু, আপনি যদি ইন অ্যাপ অ্যাডভারটাইজিংকে অর্থ আয়ের উপায় হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে সে ভয় থাকছে না।

ইন অ্যাপ অ্যাডভারটাইজিং হলো অ্যাপের ভেতরে বিভিন্ন পণ্য বা ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন এবং অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করা। বিজ্ঞাপন থেকে এবং অ্যাফিলিয়েট লিংক সূত্রে পণ্য বিক্রয় হলে তার কমিশন থেকে আয় করতে পারবেন অ্যাপ নির্মাতা। এক্ষেত্রে অ্যাপটিকে প্রিমিয়াম করতে হচ্ছে না কিংবা এর কোনো ফিচারকে ইন অ্যাপ পারচেজ পদ্ধতিতে নিতে হচ্ছে না। অর্থাৎ, অ্যাপটি সম্পূর্ণ ফ্রি রেখেও তা থেকে অর্থ আয় করা যাবে।

ইন অ্যাপ অ্যাডভারটাইজিং বর্তমানে অধিক জনপ্রিয় পদ্ধতি; Image Source: 3g.co.uk

অ্যাপের ডেসক্রিপশনে ‘নো ইন অ্যাপ পারচেজ’ কথাটি লেখা থাকলে এমনিতেই অ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বহুগুণে বেড়ে যায়। তবে, বিজ্ঞাপন ব্যবহারে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। ক্রমাগত বড় বড় বিজ্ঞাপন আসতে থাকলে ব্যবহারকারী দ্রুতই অ্যাপটি ব্যবহার করা ছেড়ে দেবে। নির্দিষ্ট সময় পরপর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে হবে এবং সেটিও সহনীয় মাত্রায়। অন্যথায় অ্যাপটি জনপ্রিয়তা হারাবে।

৪. স্পন্সরশিপ

স্পন্সরশিপ থেকে আয় করা সবচেয়ে পুরনো এবং বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোর মাঝে একটি। কোনো প্রতিষ্ঠিত পণ্য বিক্রেতা ব্র্যান্ড যদি আপনার অ্যাপে তাদের পণ্যের অফিলিয়েট লিংক প্রদর্শন করতে রাজি হয়, তাহলে অ্যাপটি ফ্রি রেখেও যথেষ্ট আয় করবার সুযোগ থাকবে আপনার হাতে।

তবে, কোনো অ্যাপকে স্পন্সরড করা সহজ কাজ নয়। প্লেস্টোরে যদি আপনার অ্যাপ অন্তত কয়েক লক্ষবার ডাউনলোড হয়, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইতিবাচক রিভিউ থাকে, তাহলেই কেবল পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার অ্যাপটিকে স্পন্সর করতে রাজি হবে। এক্ষেত্রে, অবশ্যই অ্যাপটিকে ফ্রি করতে হবে।

দ্রুত অধিক পরিমাণ ইতিবাচক রিভিউ পেতে অনেকে পেইড রিভিউয়ের পথে হাঁটেন যা একটি ভুল পদ্ধতি। অ্যাপের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে কখনোই পেইড রিভিউ ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এতে ব্যবহারকারীদের মাঝে অ্যাপটি এর বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়।

৫. সাবসক্রিপশন

সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে; Image Source: peerbits.com

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দিয়ে আয়ের আরেকটি সহজ পদ্ধতি হলো সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতি। অ্যাপের বিভিন্ন ফিচার বা সার্ভিস পেতে সাবসক্রিপশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো তথ্যমূলক কন্টেন্ট নির্ভর অ্যাপে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং এক্সক্লুসিভ কন্টেন্টগুলো পাবার জন্য সাবসক্রিপশন পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে, অন্যান্য কন্টেন্টগুলো বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও ব্যবহারকারী কৌতূহল মেটাতে সাবসক্রাইব করে থাকেন।

Written by MS Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনলাইনে আয়ের সহজতম উপায়: সার্চ করুন আয় করুন!

৮টি অনলাইন চাকরি: ঘরে বসে অর্থ আয়ের সহজ উপায়