কীভাবে সহজে অনলাইন থেকে আয় করবেন?

ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার এবং বহুমুখী ব্যবহার বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের জীবনযাপনের ধারা অনেকটাই পরিবর্তন করে দিয়েছে। দুই দশক আগেও যে বিষয়গুলো কল্পনা করা যেতো না সেগুলো এখন হরহামেশাই ঘটছে। মানুষের জীবন হয়ে গেছে অনেক সহজ। সাথে সাথে সেই জীবন যাপনের পদ্ধতিতেও এসেছে পরিবর্তন। যেমন মাত্র বছর ১০-১২ আগেও মানুষকে উপার্জন করতে ঘরের বাইরে যেতে হতো। নিজের ব্যবসা খুলে বসতে হতো কোনো বাজারে বা চাকরি নিতে হতো কোনো প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু ইন্টারনেটের বর্তমান যুগে এসে উপার্জনের সেই পুরনো ধারণাও পাল্টে গেছে। এখন মানুষ ঘরে বসেই, অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করে বড় অংকের টাকা আয় করতে পারছে।

অনলাইনে আয়ের সুযোগ উপার্জনের জন্য মানুষের ঘরের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে, দিয়েছে নিজের পছন্দমত কাজ করার স্বাচ্ছন্দ্য। এমনকি আয় করার জন্য এখন আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতাও বাধ্যতামূলক না। আবশ্যক কেবল ঐ কাজটিতে আপনার দক্ষতা। ফলে ছাত্রাবস্থায়ও অনেকে অনলাইন মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারছে।

কিন্তু অনলাইনে আয় করবেন কীভাবে? অনলাইনে আয় বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অনেকেই এখনো এই সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান রাখে না। ফলে জানার অভাবে দক্ষতা থাকার পরেও উপার্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাদের সহায়তার জন্যই আমাদের আজকের লেখা। অনলাইনে আয় করার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে এই লেখায় আলোচনা করা হবে। আসুন দেখে নেয়া যাক সেগুলো।

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আয়ের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে অনলাইনে; image source: marcguberti.com

ফ্রিল্যান্সিং

অনলাইনে আয়ের কথা উঠলেই আমাদের প্রায় সবার চোখের সামনে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি ভেসে ওঠে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না ফ্রিল্যান্সিং কী, কীভাবে ফ্রিল্যান্স কাজ করতে হয়। ফ্রিল্যান্সিং আসলে কোন নির্দিষ্ট কাজ নয়। আপনার যে বিষয়ে কাজ করার দক্ষতা রয়েছে, সেটি কাজে লাগিয়ে অন্যের কাজ করে দেয়ার ব্যাপারটিই হল ফ্রিল্যান্সিং। অর্থাৎ আপনার দক্ষতা যখন আরেকজনের চাহিদা হবে, সেটি থেকে আপনি তখন উপার্জন করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্স কাজের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে। এসব ওয়েবসাইটে ক্রেতারা তাদের কাজ প্রদর্শন করেন। আপনি যদি কাজটি করার ক্ষেত্রে দক্ষ হন, তাহলে আপনি সেটি নিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য কয়েকটি সেরা ওয়েবসাইট হলো ফ্রিল্যান্সার ডট কম, আপওয়ার্ক ডটকম, ফাইভার ডটকম, ওয়ার্কএনহায়ার ডটকম ইত্যাদি। এসব ওয়েবসাইটে নিজের দক্ষতার বিবরণ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, যেন ক্রেতারা সরাসরি আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এসব কাজের মাধ্যমে ঘন্টায় ৫ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায়।

কন্টেন্ট রাইটিং

অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য অনেক ধরনের কন্টেন্ট প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তথ্যবহুল লেখা, বিজ্ঞাপনের কপি লেখা ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। এসব লিখেও আপনি উপার্জন করতে পারেন। আপনার যদি লেখার অভ্যাস থেকে থাকে, লেখালেখি যদি আপনার পছন্দের কাজ হয়, তাহলে আয় করার জন্য এর থেকে ভাল উপায় আর নেই।

তবে ভাল উপার্জনক্ষম কন্টেন্ট রাইটার হয়ে উঠলে হলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে লেখার যোগ্যতা অর্জন করা। কারণ এতে করে আপনি ঐ বিষয়ের যেকোনো খুঁটিনাটি প্রসঙ্গে সবচেয়ে ভাল লিখতে পারবেন। আর কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে আপনার লেখার মান যত উন্নত, আপনার আয়ও তত বেশি।

দ্রুত টাইপের দক্ষতা থাকলেই করতে পারেন ডাটা এন্ট্রির কাজ; image source: meleciaathome.com

ডাটা এন্ট্রি

অনলাইনে সহজে আয় করার আরেকটি উপায় হল ডাটা এন্ট্রি। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এধরনের কাজের জন্য লোক নিয়োগ করা হয়। সেসব ওয়েবসাইটগুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলে আপনি সহজেই ডাটা এন্ট্রির কাজ পেতে পারেন। তবে ডাটা এন্ট্রির কাজে ভাল করার জন্য আপনাকে অবশ্যই দ্রুত টাইপ করা জানতে হবে। একই সাথে দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকা চাই, থাকা চাই ইংরেজির দক্ষতাও।

পিটিসি

অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে সহজ উপায় বোধহয় এই পিটিসি সাইটগুলো। এখানে আয় করার জন্য আপনাকে পিটিসি সাইটগুলোতে দেয়া বিজ্ঞাপনগুলোতে কেবল ক্লিক করতে হবে এবং অন্তত ১০ থেকে ৩০সেকেন্ড সেগুলো খোলা রাখতে হবে। এই ছোট কাজটুকু করলেই আপনাকে অর্থ দেয়া হবে।

এমন অনেক পিটিসি সাইট রয়েছে যেগুলোতে কেবল অ্যাকাউন্ট খুলে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেই আপনি উপার্জন করতে পারবেন। আপনার কোনো ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন নেই। তবে মনে রাখতে হবে, অধিকাংশ পিটিসি সাইটগুলোই ভুয়া থাকে। তাই আপনাকে বিশ্বাসযোগ্য পিটিসি সাইট খুঁজে নিতে একটু কষ্ট করতে হবে।

আয়ের জন্য করতে পারেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং; image source: eloquentacademy.com

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনি অন্যের পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে বিক্রিত পণ্যের ওপর কমিশন পাওয়ার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানটি এক্ষেত্রে নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে না। বরং তাদের যেকোনো একটি ক্যাটাগরির পণ্য বেছে নিয়ে আপনি সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন করেন।

যখন আপনার বিজ্ঞাপনের ফলে কোনো একটি পণ্য বিক্রি হয় তখনই আপনি কমিশন পান। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য নিজস্ব একটি শক্তিশালী ওয়েবসাইট থাকা প্রয়োজন। কারণ বিপণনের কাজটি এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

অনলাইনে অর্থ আয়ের জন্য হতে পারেন ইউটিউবারও; image source: streamhash.com

ইউটিউব ভিডিও

বিশ্বব্যাপী ইটিউব এখন অনেক বেশি জনপ্রিয়। লেখার থেকে ভিডিও কন্টেন্টের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে। ফলে ভিডিও বানিয়ে ইউটিউব থেকে আয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও অনেক ইউটিউবার রয়েছেন যারা জনপ্রিয় ভিডিও বানিয়ে ইউটিউব থেকে আয় করছেন। আপনিও হতে পারেন তাদের একজন।

এজন্য অবশ্যই ভিডিও বানানোর প্রযুক্তিগত সামর্থ্য এবং দক্ষতা থাকতে হবে। আর অবশ্যই ভাল কন্টেন্ট আইডিয়া থাকতে হবে। দর্শক পছন্দ করবে এমন ভিডিওই বানাতে হবে। কেননা ইউটিউবে আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা এবং আপনার ভিডিও কত সময় ধরে একজন দর্শক দেখছেন সেটির ওপরেই আপনার আয় নির্ভর করবে। যত বেশি দর্শক আপনার বানানো ভিডিও দেখবে, আপনার আয় তত বেশি হবে। 

Written by Sizan Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-বুক বিক্রি করে অর্থ আয়

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের মাধ্যমে আয়