কিভাবে একজন সফল অনলাইন ফিটনেস কোচ হবেন

বর্তমানে ইন্টারনেটের সহায়তায় নানা ক্ষেত্র হতে উপার্জন করা যায়। উপার্জনের তেমনই একটি উৎস হলো অনলাইন ফিটনেস কোচিং। এটি এমন এক খাত যেখানে মানুষ সুঠাম দেহ গঠনের পাশাপাশি অন্যকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে অর্থ আয় করতে পারে। ফিটনেস কোচের কাজ মূলত অন্যকে শরীর এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘ম্যাচো ম্যান’দের দেখে অনেকেই সুঠাম দেহ গঠনে আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে এটি একটি আধুনিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

ফিটনেস কোচিংয়ের ফলাফল Image Source ; fitmag.in

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, যাদের কামনীয় এবং মজবুত দেহ রয়েছে, তারা সকলেই ফিটনেস কোচ হয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবে কিনা। উত্তরটি অবশ্যই ‘না’। একটি ভালো ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নাম কামাতে চাইলে অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং কৌশল রপ্ত করতে হবে। যেমন ধরুন সকল কাজের কাজী হয়েও অনেককে শেষমেশ খালি হাতে বাড়ি ফিরতে
হয়, যদি সে কোনো একটি ক্ষেত্রে তার সেরাটি না দেয়। তাই নিজের স্বকীয়তা খুঁজে বের করতে হবে এবং এর পাশাপাশি হতে হবে অনন্য।

আপনার ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব আর প্রাত্যহিক জীবনের ব্যক্তিত্ব হতে হবে অন্যদের চেয়ে আলাদা। চমকপ্রদ ভিডিও কনটেন্ট বানানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে নানা ক্যাম্পেইনের আয়োজন করতে পারেন, যা আপনার প্রভাব বৃদ্ধি করবে। যেহেতু প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছেন, সুতরাং এর সেরাটা কাজে লাগানো উচিত। অন্যান্য ট্রেইনারদের সরাসরি অনুকরণ না করে তাদের টেকনিক হতে অনুপ্রাণিত হতে হবে এবং ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রিজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। কেননা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন দক্ষতা ও কলাকৌশল সম্বলিত শারীরিক ব্যায়ামের আবির্ভাব ঘটছে।

টেকনিক নিয়ে আলোচনা; Image Source ; nwwomensfitness.com

পরিশেষে একটি শক্তিশালী ফ্যান বেজ তৈরি করতে হবে। এটি করতে হলে নিজেকে অদ্বিতীয় ভেবে বসে থাকলে চলবেনা। সুনাম বজায় রাখতে এবং অর্থের চাকা সচল রাখতে অবশ্যই নিজেকে আপডেট করতে হবে।

অনলাইন ফিটনেস কোচিংকে আয়ের একটি উৎস হিসেবে দেখার পরবর্তী ধাপ হচ্ছে কি করে ক্লায়েন্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়, তা নিয়ে ভাবা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার এ যুগে মানুষ কি করে একে অপরকে হারিয়ে এগিয়ে যেতে পারে তার ফন্দি আঁটতে থাকে।

ক্লায়েন্ট বাগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে আপনি নীচের পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করতে পারেন-

১. নেটওয়ার্কিং এবং মার্কেটিং:

আত্মীয় কিংবা বন্ধুদের মধ্য থেকেই কেউ বডি ফিটনেসের ব্যাপারে আগ্রহী হতে পারে। শুরুটা বাড়ির ধারে হলেও একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে ক্রমেই নেটওয়ার্কিং বাড়তে থাকবে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, প্রভৃতি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে প্রচারণার জন্য। ফেসবুকে পোস্ট বুস্ট করার প্রক্রিয়া রয়েছে।

এর দ্বারা আপনার পোস্টটি আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের (যারা বডি ফিটনেস, ওজন হ্রাস এবং বডি বিল্ডিং- এসব বিষয়ে আগ্রহী) কাছে পৌঁছুবে। কম খরচে ওয়েবসাইটও বানাতে পারে এবং সেখানে ফিটনেস বিষয়ক ভিডিও, সময়সূচী এবং লেখা শেয়ার করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোচ হিসেবে নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকে। ওয়ার্ডপ্রেস এবং আরও নানা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ওয়েবসাইট বা ব্লগ বানানো যায়।

ওয়ার্ক আউটের  পাশাপাশি প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য; Image Source; gymaholic.com

২. ব্যক্তিত্বের প্রভাব:

প্রচলিত আছে “মিষ্টি কথায় চিড়া ভিজে না।” অর্থাৎ, সুঠাম দেহ কাঠামো থাকার পাশাপাশি হতে হবে স্মার্টও। বডি ফিটনেসে আগ্রহী জনগণ শুধু একটি ওয়ার্কআউট চার্ট কিংবা ডায়েট চার্ট প্রত্যাশা করে না। তারা অনুপ্রেরণাও পেতে চায়।

তাই নিজের কাজ সম্পর্কে আপনার যথেষ্ট শ্রদ্ধা থাকতে হবে এবং হতে হবে দৃঢ়বিশ্বাসী। প্রতিদিনের সেশনে একটি মোটিভেশনাল উক্তি দিয়ে শুরু করার মাধ্যমেও ফলোয়ারদের উদ্দীপ্ত করা যায়। এতে করে তারা তাদের ট্রেনিংয়ে আরো আগ্রহী হবে এবং মাঝপথে থামিয়ে দেবে না।

৩. বৈচিত্র্যপূর্ণ কৌশল:

পুষ্টি বিষয়ক সাপ্তাহিক পরিকল্পনা, নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট, দৈনিক শরীরচর্চার প্রক্রিয়া, ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন ফিটনেস ট্রেনিং ও পুষ্টি বিষয়ক জ্ঞান দান, প্রভৃতি বিষয়গুলো অনলাইন ক্লায়েন্টদের সহজে আকর্ষিত করে। মূলত এটি একটি প্যাকেজ। ফলে এতসব বিষয়ে একটি জায়গা থেকে পাওয়া যায় এই ভাবনা নিয়েই তারা একজনের প্রতি আস্থা রাখা শুরু করে।

৪. ডিসকাউন্ট এবং পদোন্নতি:

মানুষকে প্রণোদিত করার একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী উপায় হলো বিশেষ কিছু ট্রেনিংয়ের জন্য অফার দেওয়া। ডিসকাউন্ট পাওয়ার আশায় স্বল্প উৎসাহিত ব্যক্তিরাও ট্রেনিং কোর্স গ্রহণে আগ্রহী হবে। এছাড়াও সাত দিন কিংবা ৩০ দিনের মতো স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা পেশ করা যেতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করা যায়।

৫. নির্দ্বিধায় নিজেকে প্রমোট করা:

অনেক সময় কটাক্ষ করে আমরা বলে থাকি “নিজের ঢোল নিজে পেটায়!” তবে অনলাইনের মতো একটি বিশাল জগতে নিজেকে নানা স্প্যামের ভিড়ে হারিয়ে না ফেলতে চাইলে অবশ্যই এ কৌশল অনুসরণ করতে হবে। যেসব ক্লায়েন্ট সেশন দ্বারা উপকৃত হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাদের অনুরোধ করতে হবে যেন তারা আপনার জন্য প্রচারণা চালায় কিংবা পরিচিতজনদের নিকটা আপনার কোচিংয়ের বর্ণনা দেয়। সে প্রকৃতই লাভবান হয়ে থাকলে বিনা দ্বিধায় আপনার জন্য এটুকু করতে রাজি হবে। অবশ্য অফার এবং ডিসকাউন্টের প্রলোভনও এখানে দেখানো যেতে পারে।  

নেটওয়ার্কিং বাড়াতে প্রয়োজন আলোচনা ; theactivetimes.com

এই পাঁচটি পন্থায় প্রাথমিকভাবে ক্লায়েন্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা গেলেও সুনাম ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রমের। স্বল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে আয়ের একটি স্থায়ী পথ এই ফিটনেস কোচিং ।

ফিচার ছবি- pts.sg

Written by Lameesha Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সফল ইউটিউবার হবার মূলমন্ত্র

অনলাইন ডাটা এন্ট্রি: ঘরে বসেই আয়