দক্ষ কন্টেন্ট রাইটারের যে পাঁচটি গুণ থাকা আবশ্যক

আমাদের মাঝে অনেকেই লিখতে ভালোবাসে। অধিকাংশ সময় হয়তো কেবল মনের খোরাক জোগানোর জন্যই এই লেখার আয়োজন। তবে বর্তমানে এই ভালোবাসার কাজটিকেও পেশায় রূপান্তরিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কবি, সাহিত্যিকদের মতো করে না হলেও অনলাইনে লেখালেখি করে যেকোনো লেখক এখন বড় অংকের টাকা উপার্জন করতে পারেন।

অনলাইনে লেখালেখির এই কাজটি কন্টেন্ট রাইটিং হিসেবে বেশি পরিচিত। যেকোন অফলাইন মাধ্যমেও আপনি কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতে পারেন। কিন্তু, আমাদের আজকের আলোচনা অনলাইন মাধ্যমে কীভাবে নিজেকে একজন ভাল কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে গড়ে তুলবেন সেদিকে মূল দৃষ্টি দেবে।

অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগের জন্য বিভিন্ন বিচিত্র বিষয়ের ওপর আর্টিকেল বা লেখার প্রয়োজন হয়। তখন তারা এসব আর্টিকেলের জন্য বিভিন্ন লেখক নিয়োগ দেয়। প্রতি আর্টিকেল বা শব্দপ্রতি তারা পারিশ্রমিক দেয়। সুতরাং যাদের লেখালেখির অভ্যাস রয়েছে বা লিখতে ভালবাসেন, তাদের উপার্জনের জন্য কন্টেন্ট রাইটিং একটি ভাল ক্ষেত্র হতে পারে।

অনলাইনে লেখালেখি করে উপার্জন করতে পারবেন অর্থ; image source: medium.com

তবে অনলাইন কন্টেন্ট রাইটিং একটু ব্যতিক্রম। এখানে ভাল কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আপনাকে বেশ কিছু গুণ অর্জন করতে হবে, বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। আসুন এসব নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। জেনে নেয়া যাক কীভাবে আপনি নিজেকে একজন দক্ষ কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলে অনলাইনে উপার্জন করতে পারবেন।

লেখার নিজস্ব ধরন

প্রত্যেক লেখকেরই লেখার নিজস্ব ধরন রয়েছে, রয়েছে নিজস্ব স্টাইল। এই স্টাইলই তাকে অন্যান্য লেখকদের থেকে আলাদা করে তোলে। অনলাইনেও লেখালেখির সময় এই নিজস্ব স্টাইল গড়ে তোলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনলাইনে আপনার প্রতিযোগী বর্তমানে অফলাইনের থেকে অনেক বেশি। সহজে উপার্জন করা যায় বিধায় অনেক বেশি মানুষ এখন অনলাইনে লেখালেখির চেষ্টা করছেন। ফলে এত লেখকের মাঝে বিশেষভাবে আপনার চাহিদা, পরিচিতি বাড়ানোর একমাত্র উপায় হলো নিজস্ব, ব্যতিক্রম লেখার ধরন প্রতিষ্ঠা করা।

এছাড়া একজন কন্টেন্ট রাইটারকে বিচিত্র বিষয়ে, বিচিত্র ধরনের লেখা লিখতে হয়। প্রত্যেকটি বিষয়ে, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তাকে দক্ষ হতে হবে। যেমন, সংবাদধর্মী লেখা লেখার সময় তাকে সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল স্টাইলে লিখতে হবে। আবার ব্লগের লেখা অনেকটা আলাপী ঢংয়ের, নিজস্ব মতামত সম্বলিতলেখা। বিজ্ঞাপনের কপি লেখা হয় অনেক আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্তভাবে, বিপণন পলিসি মাথায় রেখে। এভাবে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্টের জন্য বিভিন্ন স্টাইল মেনে চলতে হয়। এর সাথে লেখকের নিজস্বতার সংমিশ্রণ হলেই কেবল একটি অসাধারণ কন্টেন্ট বেরিয়ে আসে।

লেখার বিষয় নির্ধারণে নিজের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিন; image source: expresswriters.com

লেখার বিষয় নির্ধারণ

সফল কন্টেন্ট রাইটাররা কখনো এলোমেলোভাবে নিজেদের লেখার বিষয় পছন্দ করেন না। বরং তারা তাদের জানাশোনা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে নিজেদের লেখার বিষয় পছন্দ করেন। প্রত্যেক কন্টেন্ট রাইটারেরই উচিত কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে নিজের লেখালেখির দক্ষতা গড়ে তোলা। লেখালেখির অনেক বিষয় রয়েছে। যেমন প্রযুক্তি, খেলাধুলা, জীবনী, সমসাময়িক রাজনীতি ইত্যাদি।

একজন কন্টেন্ট রাইটার এই সবগুলো বিষয়েই পারদর্শী হবেন এমনটি ভাবা ভুল। বরং যেকোনো একটি বিষয়ের ওপর লেখালেখির যোগ্যতাই তার চাহিদাকে অনেক বেশি বাড়িয়ে দেবে। সকল বিষয়ে লেখালেখির চেষ্টা করলে দেখা যায় কোনো বিষয়েই একদম এক্সপার্ট হয়ে ওঠা যায় না। বরং নিজের পছন্দের ভিত্তিতে যেকোনো একটি বিষয়ে নিয়মিত কাজ করার ফলে ঐ বিষয়ের এক্সপার্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা যায়। আর কে না জানে, এক্সপার্টের চাহিদা এবং উপার্জন- দুটোই সবসময় বেশি।

মৌলিক লেখার বিকল্প নেই

কন্টেন্ট রাইটিংয়ের কাজটি বেশ জটিল। জটিল এই কারণে যে আপনার লেখাটি যতটা মৌলিক, আপনার কন্টেন্টটি ততটা দামী। কিন্তু অধিকাংশ লেখকই এই মৌলিক লেখা লিখতে গিয়ে অসুবিধার সম্মুখীন হন। অনলাইনে কন্টেট রাইটাররা অধিকাংশ সময়ই লেখালেখির জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্যকে ব্যবহার করেন।

তথ্য ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন দেখা যায় একই বিষয়ের ওপর অন্য ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট রয়েছে এবং লেখক সময় বাঁচানোর জন্য সেই কন্টেন্টটির অনুলিপি নিজের কন্টেন্ট হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছেন। সহজে, দ্রুত একটি লেখা শেষ করা যায় বিধায় কন্টেন্ট রাইটাররা অনেক সময় এমন করতে পারেন।

কিন্তু মনে রাখবেন, একজন ভালো ও সফল কন্টেন্ট রাইটারের প্রধান গুণই হলো তার লেখার মৌলিকতা। কখনো অন্যের লেখার অনুলিপি করা যাবে না, লেখা চুরি করা যাবে না। বরং যে বিষয়ে লিখছেন সে বিষয় সম্পর্কে অন্যের লেখা থেকে তথ্য নিতে পারেন। তথ্য নিয়ে নিজের মতো করে, নিজের ভাষায় সেটিকে উপস্থাপন করুন। নিজের লেখার স্টাইলের ওপর ভরসা রাখুন। এক্ষেত্রেও কখনোই তথ্যসূত্র উল্লেখ করতে ভুলবেন না।

এসইও সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা থাকতে হবে; image source: erobeachdigitalmarketing.com

এসইও (SEO) সম্পর্কে ধারণা

একজন দক্ষ কন্টেন্ট রাইটারকে অবশ্যই এসইও সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। কেবল ধারণা রাখলেই হবে না, কন্টেন্টকে এসইও উপযোগী করেও গড়ে তুলতে হবে। এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজিং। অর্থাৎ, অনলাইনে একজন ব্যবহারকারী যখন কোনো সার্চ ইঞ্জিনে কোনো বিষয়ের খোঁজ করেন তখন তিনি কী-ওয়ার্ড বা প্রধান শব্দগুলো দিয়ে খোঁজ করেন। সার্চ ইঞ্জিনও এই কী-ওয়ার্ডের ভিত্তিতেই পর্যায়ক্রমে সে সংক্রান্ত লেখা, তথ্য তার সামনে হাজির করে।

একজন কন্টেন্ট রাইটারের প্রধান উদ্দেশ্য অবশ্যই তার লেখা যেন অধিক সংখ্যক মানুষ পড়ে, বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়। সুতরাং এই এসইও এর কথা চিন্তা করেই একজন কন্টেন্ট রাইটারকে কোনো বিষয়ের ওপর প্রধান ‘কী-ওয়ার্ডগুলো’ কী কী তা জেনে তারপর কন্টেন্টটি তৈরি করতে হবে।

এছাড়া কী ওয়ার্ডগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। ব্যবহারকারীরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একই বিষয়ের খোঁজ ভিন্ন ভিন্ন কী ওয়ার্ড দিয়ে করতে পারে। তাই কন্টেন্ট রাইটারকে তার লেখার বিষয়ের কী ওয়ার্ডগুলোর ব্যাপারে সবসময় আপডেট থাকতে হবে। তবে এটাও মনে রাখা জরুরি, লেখার মান সবসময় প্রাধান্য পায়। আপনার লেখাটি যদি বিশ্লেষণাত্মক, তথ্যবহুল হয় তাহলে অবশ্যই সার্চ ইঞ্জিনের ওপরের দিকেই জায়গা পাবে সেটি।  

লেখার আগে অবশ্যই রিসার্চে মনোযোগী হতে হবে; image source: kisspng.com

রিসার্চের মানসিকতা

একজন কন্টেন্ট রাইটারকে অবশ্যই কোনো একটি বিষয়ের ওপর বিশদ জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে রিসার্চের মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে। কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে আপনি যখন লিখতে বসবেন তখন আপনাকে অবশ্যই একটি তথ্যবহুল এবং মৌলিক লেখা লিখতে হবে।

আপনি যত বেশি নতুন তথ্য আপনার লেখায় যুক্ত করতে পারবেন, পাঠকদের আছে আপনার লেখার চাহিদা তত বাড়বে। আর নতুন তথ্য আপনি তখনই পাবেন যখন ঐ বিষয়ে আপনি অনেক পড়াশোনা ও খোঁজখবর করবেন। এখন তো অনলাইনেই জ্ঞানের বিশাল সমুদ্র রয়েছে। প্রয়োজন কেবল আপনার ধৈর্য, জানার মানসিকতা এবং আপনার লেখা কন্টেন্টকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার ইচ্ছা।  

Written by Sizan Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ট্রান্সক্রাইবিংয়ের মাধ্যমে আয়ের আদ্যোপান্ত

অনলাইন সার্ভে থেকে আয় করার সুযোগ