ওয়ার্ডপ্রেস থেকে যেভাবে অর্থ আয় করবেন

বর্তমানকালের নেটিজেনদের নিকট ওয়ার্ডপ্রেস শব্দটি অত্যন্ত পরিচিত। বিশেষ করে যারা অনলাইনকে কেন্দ্র করে নিজেদের ক্যারিয়ার তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তারা ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে ভালোভাবে পরিচিত। কেননা, ওয়েব ডেভলপিং এর মতো কঠিন ও জটিল কাজ ওয়ার্ডপ্রেসের আগমনে হয়ে উঠেছে অত্যন্ত সহজ এবং সাবলীল। কিছুদিন প্রশিক্ষণ নিয়ে যে কেউ ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি করতে পারছে ওয়েবসাইট।

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়তো সহজ। কিন্তু এ কাজে প্রফেশনাল না হলে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব না। তবে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে অর্থ আয়ের জন্য কেবল ওয়েব ডেভলপমেন্টই করতে হবে, ব্যাপারটা তেমনও নয়। ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কিত বেশকিছু কাজ রয়েছে, যেগুলো করার মাধ্যমে আপনি অর্থ আয় করতে পারেন সহজেই। চলুন দেখে নিই কী সেই কাজগুলো।

প্লাগিনস বিক্রয়

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারের একটি মৌলিক ইনস্ট্রুমেন্ট হলো প্লাগিনস। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কোনো একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে এবং সফলভাবে পরিচালনা করতে প্লাগিনস আবশ্যক। তাছাড়া, কোনো ব্লগে আকর্ষণীয় সব ফিচার যোগ করবার জন্যও প্লাগিনস প্রয়োজন হয়। অনলাইনে হাজারো প্লাগিনস রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এসব প্লাগিনসের কিছু ফ্রি এবং কিছু প্রিমিয়াম।

Image Source: daretothink.co.uk

প্রিমিয়াম প্লাগিনস বিক্রয় করে যে কেউ স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে। যদি আপনি প্লাগিনস তৈরিতে দক্ষ হন, তাহলে আজই গবেষণা শুরু করুন কোনো একটি বিশেষ সমস্যা নিয়ে, যা সমাধান করতে পারলে ওয়েবসাইট বা ব্লগে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা। আপনার এই সমাধান যদি আদতে কার্যকর কিছু হয়, তাহলে হাজারো মানুষ তা কিনবে এবং আপনি ক্রমাগত আয় করতে থাকবেন।

মনে রাখতে হবে, ওয়ার্ডপ্রেস সংক্রান্ত অধিকাংশ সমস্যার সমাধানই ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে আছে। আপনাকে অবশ্যই কোনো নতুন সমস্যা খুঁজে বের করতে হবে, জানতে হবে সেটি আসলেই সমাধানযোগ্য কিনা। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক পরিমাণ গবেষণা। প্লাগিনস তৈরি হয়ে গেলে তা যেকোনো নির্ভরযোগ্য প্লাগিনস বেচাকেনার প্লাটফরমে গিয়ে বিক্রয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে, প্লাগিনস বেচাকেনার জন্য সেরা প্লাটফরম CodeCanyon এ যেতে পারেন।

২. ওয়ার্ডপ্রেস থিম তৈরি করা

যেহেতু ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি প্রতিনিয়ত বাড়ছে, ওয়ার্ডপ্রেস থিমের চাহিদাও তাই আকাশ ছুঁতে চলেছে। যেকোনো ওয়েবসাইটকেই আকর্ষণীয় করে তুলতে একটি সৃজনশীল ও রুচিশীল থিমের প্রয়োজন হয়। আর আপনি যদি সে থিম ডিজাইন করতে সক্ষন হন, তাহলে অর্থ উপার্জন নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা নেই।

Image Source: athemes.com

ওয়ার্ডপ্রেস থিম তৈরি করবার জন্য কাউকে ভীষণ অভিজ্ঞ ও প্রফেশনাল ডিজাইনার হতে হয় না। অ্যাডবি অ্যাক্রোব্যাট, ফটোশপ, ড্রিমওয়েভার সহ কয়েকটি সফটওয়্যারের ব্যবহার জানতে পারা আর সৃজনশীলভাবে ভাবতে পারাই থিম ডিজাইনিংয়ের জন্য যথেষ্ট। এলিগেন্ট থিমস, উ থিমস, স্টুডিওপ্রেস ইত্যাদি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ার্ডপ্রেস থিম ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। আপনি তাদের নিকট নিজের তৈরি করা থিমটি বিক্রয় করতে পারেন কিংবা প্রতিষ্ঠানের হয়ে স্থায়ীভাবে চাকরি করতে পারেন।

৩. ওয়ার্ডপ্রেস কনসাল্টিং সার্ভিস

ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে আয়ের সবচেয়ে সহজ উপায়টি হলো ওয়ার্ডপ্রেস কনসাল্টিং সার্ভিস। অবশ্য এর জন্য আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেসে অত্যন্ত দক্ষ ও পারদর্শী হতে হবে এবং ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব ডেভলপার হিসেবে মোটামুটি খ্যাতিসম্পন্ন পোর্টফোলিও থাকতে হবে। অন্যথায় মানুষ আপনার নিকট পরামর্শ গ্রহণে আগ্রহী হবে না।

Image Source: radiustheme.com

ওয়ার্ডপ্রেস বিষয়ক পরামর্শক সাধারণ সাইটের কাস্টম ডিজাইন, কী কী প্লাগিনস ব্যবহার করতে হবে, কোন থিমটি উপযুক্ত হবে ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নিজস্ব ব্লগ খোলার মাধ্যমে, ইউটিউব চ্যানেলে টিউটোরিয়াল ভিডিওর মাধ্যমে, অন্য কোনো সাইট বা প্লাটফর্মে অর্থের বিনিয়মে বক্তৃতা দিয়ে কনসাল্টিং সার্ভিস প্রদান করতে পারবেন।

৪. ব্লগ সেটাপ সার্ভিস

ওয়ার্ডপ্রেস থেকে অর্থ আয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উপায়টি হলো ব্লগ সেটাপ সার্ভিস। ব্লগ সেটাপ সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে অর্থ আয় করতে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেসে পারদর্শী হতে হবে না। কিছু মৌলিক বিষয়ে জানাশোনা থাকলেই আপনি এ কাজ করতে পারবেন। ব্লগ সেটাপ সার্ভিস হচ্ছে মূলত ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টলেশন, সরবরাহকৃত প্লাগিনস যোগ করা, থিম আপলোড করা, ইত্যাদি।

ব্লগ সেটাপ সার্ভিসের জন্য আপনি আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ব্লগে একটি সেটাপ সার্ভিস প্রোমোশনাল লিংক যোগ করে দিতে পারেন, যেখান থেকে ক্রেতারা আপনার সার্ভিস গ্রহণে আকৃষ্ট হবে। তবে, আজকাল অধিকাংশ ক্রেতাই ব্লগ সেটাপ সার্ভিসের জন্য অর্থ খরচ করতে চান না। সেক্ষেত্রে, বিনামূল্যে সার্ভিস প্রদান করেও আপনি অর্থ আয় করতে পারেন ওয়ার্ডপ্রেস হোস্ট বিক্রয়ের মাধ্যমে।

Image Source: roopokar.com

এক্ষেত্রে আপনাকে কোনো একটি ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং প্লাটফর্মের অ্যাফিলিয়েট হবে। আপনি আপনার ব্লগে সে প্রতিষ্ঠানের হোস্টিংয়ের অ্যাফিলিয়েট লিংক প্রদর্শন করবেন। কোনো ক্রেতা যদি আপনার সার্ভিস গ্রহণের পাশাপাশি আপনার সরবরাহ করা অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে কোনো ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ক্রয় করতে রাজি হন, তাহলে আপনি আয় করবেন নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন।

৫. থিম কাস্টমাইজেশন

ওয়ার্ডপ্রেসের থিম কাস্টমাইজেশন আরেকটি জটিল এবং দক্ষতা নির্ভর কাজ। থিম কাস্টমাইজেশনের কাজ করতে হলে আপনাকে দক্ষ হবার পাশাপাশি অভিজ্ঞও হতে হবে। থিম তৈরি করা আর থিম কাস্টমাইজেশনের মাঝে পার্থক্য আছে। অনেকেই নতুন থিম বানানোর চেয়ে ইন্টারনেটে বিদ্যমান হাজারো থিম থেকে একটি বেছে নিতেই পছন্দ করেন।

এক্ষেত্রে, তার পছন্দ করা থিমটি তার ওয়েবসাইটের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ না-ও হতে পারে। থিম কাস্টমাইজার হিসেবে আপনারে কাজ হবে সেই থিমটিকে তার ওয়েবসাইটের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে তোলা। আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সারের মতো জনপ্রিয় প্লাটফর্মগুলোতে থিম কাস্টমাইজেশনের প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।

ফিচার ছবি: tribulant.com

Written by MS Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

৮টি অনলাইন চাকরি: ঘরে বসে অর্থ আয়ের সহজ উপায়

ফেসবুক থেকে অর্থ আয়ের সহজ কিছু উপায়