ই-বুক বিক্রি করে অর্থ আয়

ইন্টারনেটের দুনিয়া এখন অনেক বড়। এখানে প্রতিনিয়তই কাজের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে অনেকেই অনলাইনে বই বিক্রি করে অর্থ আয় করছে।

বইয়ের চাহিদা ছিলো, আছে এবং থাকবে। তবে প্রিন্ট করা বইয়ের চাহিদা কমতে থাকবে; ই-বুকের চাহিদা বাড়তে থাকবে বহুগুণে। ই-বুকে প্রিন্ট করার কোনো খরচ নেই। ফলে বইয়ের মূল্য হয় কম; পাঠকের জন্য বই হয় সাশ্রয়ী। ই-বুকের বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।

ই-বুক কী

ই-বুক হলো একটি পুর্ণাঙ্গ বই যেটি কেবল ইলেকট্রিক মাধ্যমে থাকে। এই বই শুধু ইলেক্ট্রিক ডিভাইসেই দেখা যায় এবং পড়া যায়। এই বই পড়তে ডিভাইস এবং নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়। ই-বই সাধারণত ডকুমেন্টস (.doc, .docx), পিডিএফ (.pdf), ই-রিডার ফরমেট (.epub), টেক্সট (.txt) ইত্যাদি ফরম্যাটে পাওয়া যায়।

একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে লক্ষ লক্ষ ই-বুক রাখা যায়; Image source: openculture.com

যে কারণে ই-বুক লিখতে হবে

ই-বুক লিখতে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না- এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অভিজ্ঞতা থাকলে লেখার মান ভালো হবে। লেখালেখিতে আগ্রহ থাকলে ই-বুক লিখে আনন্দ পাওয়া যায়; সেই ই-বুক থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ভালো পরিমাণ অর্থ আয়ও করা যায়। ই-বুক হলো ডিজিটাল বই যেটিকে পছন্দমতো মূল্যে যতবার ইচ্ছা ততবার বিক্রি করে অর্থ আয় করা যায়।

লিখতে জানলে ওয়ার্ড প্রসেসিং এর যেকোনো সফটওয়্যার দিয়েই লেখা যেতে পারে। নিজে লিখতে না পারলে লেখক (Ghostwriter) ভাড়া করে ই-বুক লিখিয়ে নেওয়া যেতে পারে অথবা প্রাইভেট লেবেল কনটেন্ট কিনে এর লেখা পরিবর্তন করে সেগুলো ই-বুক বানিয়ে বিক্রি করা যায়। ইনফোগ্রাউন্ড ডট কম বা ইবুকহোলসেলার ডট কম সাইটে প্রাইভেট লেবেল কনটেন্ট কিনা যায়। গেটএফ্রিল্যান্সার ডট কম বা ইল্যান্স ডট কম সাইট থেকে ই-বুক লেখার জন্য লেখক ভাড়া করা যায়।   

ওয়ার্ড প্রসেসিং যেকোনো সফটওয়্যারেই ই-বুক লেখা যায়; Image source: webopedia.com

যেভাবে ই-বুক লিখতে হবে

প্রথমেই ই-বুকের বিষয় নির্বাচনে গুরুত্ব দিতে হবে। এমন কিছু লিখতে হবে যার বাজারে চাহিদা আছে এবং পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয়, তাকে আকৃষ্ট করবে। লেখার সময় ভাষা যাতে মার্জিত, সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় হয় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বানানের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। লেখার সাথে সাথে ছবি, গ্রাফ, চার্ট, রেফারেন্স ব্যবহার করতে হবে যাতে ই-বুকটি আকর্ষণীয় হয়। দক্ষতা ও জানাশোনার পরিধি অনুযায়ী ই-বুক লেখা উচিৎ।

মার্কেটপ্লেসে ই-বুক বিক্রি

অনলাইনে ও অনলাইনের বাইরে অজস্র মানুষ প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ বইয়ের খোঁজ করে। বই মানুষের জ্ঞান পিপাসাকে দূর করে তাকে সুশিক্ষিত ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে ই-বুক বিক্রি করা যায়। এমন জনপ্রিয় দুইটি মার্কেটপ্লেস হলো-

পেহিপ

পেহিপ ডট কম ই-বুক বিক্রির জন্য খুবই জনপ্রিয় সাইট। ই-বুকসহ যেকোনো ডাউনলোডযোগ্য ডিজিটাল পণ্য এখানে বিক্রি করা যায়।

পে-হিপ ই-বুক বিক্রি করার জনপ্রিয় সাইট; Image source: logosbynick.com

পে-হিপে একাউন্ট খুললে ওয়েবসাইটটিতে একটি ফ্রি সেলপেইজ পাওয়া যায়। এই সেলপেইজে নানা ধরনের পাবলিশিং টুল থাকবে যেগুলো ব্যবহার করে বই বিক্রয়, ডিসকাউন্ট, অ্যাফিলিয়েটেড প্রোগ্রাম ইত্যাদি করা যায়। মোট বিক্রয়ের পাঁচ শতাংশ পে-হিপ তাদের কমিশন হিসেবে রেখে দেয়।

কিন্ডেল ডিরেক্ট পাবলিশিং

কিন্ডেল ডিরেক্ট পাবলিশিং এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স সাইট অ্যামাজনে বিনামূল্যে ই-বুক প্রকাশ করা যায়।

কিন্ডেল ডিরেক্ট পাবলিশিং এর মাধ্যমে অ্যামাজনে ই-বুক বিক্রি করা যায়; Image source: amazon.com

এর ফলে অ্যামাজনের মত বড় প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সহজেই বই বিক্রি করা যায়। মোট বিক্রয়ের ত্রিশ ভাগ কমিশন হিসেবে অ্যামাজন রেখে দেয়। 

ব্লারবি

ব্লারবিতে যে শুধু ই-বুক বিক্রি করা যায় তা-ই নয়, এখানে ই-বুক তৈরির নানারকম টুলসও পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই কোম্পানিটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির কর্মী সংখ্যা একশ বিশ। ছাপা বই বিক্রয়ে এরা কোনো কমিশন রাখে না; ই-বুক বিক্রয়ে মোট মূল্যের বিশ শতাংশ কমিশন রেখে দেয়।

এছাড়াও লুলু, ট্রেডবিট, নুক প্রেস, কোবো রাইটিং লাইফ, স্ম্যাশওয়ার্ড ইত্যাদির মাধ্যমে ই-বুক বিক্রি করা যায়।    

ওয়েবসাইটে বই বিক্রি

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কার্যকরভাবে নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছানো যায় এবং পাঠককে ক্রেতায় পরিণত করা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সহজেই ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানো যায়। ই-বুকের বিভিন্ন চ্যাপ্টার আর্টিকেল হিসেবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে পাঠককে জানিয়ে দিন যে আর্টিকেলের বিস্তারিত বইতে পাওয়া যাবে। আর্টিকেল পছন্দ হলে  ভিজিটররা বই কিনতে আগ্রহী হবে। নিজে লেখক না হলে অন্যের ই-বুক বিক্রি করে কমিশন থেকে বিপুল অর্থ আয় করা যায়।

ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক বেড়ে গেলে অ্যামাজন থেকে অ্যাফিলিয়েট লিংক নিয়ে বই বিক্রি করা যায়। এতে ঐসব বই বিক্রির নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কমিশন হিসেবে পাওয়া যাবে।

ওয়েবসাইটে ভালো পরিমাণ ভিজিটর আসা শুরু হলে গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা যেতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বই বিক্রি

সামাজিক যোগাযযোগ মাধ্যমে বাই অ্যান্ড সেল গ্রুপ তৈরি করে ই-বুক বিক্রি করা যেতে পারে। জানার চেষ্টা করতে হবে গ্রুপের সদস্যদের কোন বইয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি। সে ধরনের বই নিজে লেখা, ফ্রিল্যান্সার দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া বা অন্যের লেখা সে ধরনের বই বিক্রি করা যেতে পারে।

এক্ষেত্রে গ্রুপের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা, গ্রুপের সদস্যদের সাথে কথা বলা এবং নিয়মিত গ্রুপে পোস্ট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপের দিকে গুরুত্ব না দিলে এর সদস্য সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাবে। ই-বুকের ভেতরে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন প্রচার করেও আয় করা যায়। এক্ষেত্রে অনেকেই ই-বুকটি বিনামূল্যে বিতরণ করে।

অনলাইনের কাজ একটি পদ্ধতির ভেতরে আবদ্ধ নয়। ই-বুক বিক্রি করে অনেকেই এখন আয় করছে। তবে মনে রাখতে হবে, পাইরেটেড বই বিক্রি করা যাবে না। এটি ব্যবসায়ের ক্ষতি করবে।

ফিচার ছবি: calibre-ebook.com

Written by Sadman Sakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেসবুক থেকে অর্থ আয়ের সহজ কিছু উপায়

কীভাবে সহজে অনলাইন থেকে আয় করবেন?