ইনস্টাগ্রামকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আয় করুন

২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে ইনস্টাগ্রাম। ছবি শেয়ারিংয়ের এই মাধ্যমটি সেই থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়ে আসছে ব্যবহারকারীদের কাছে। সময়ের সাথে সাথে ফেসবুক বহুদূর এগিয়ে গেলেও খুব বেশি পিছিয়ে নেই ইনস্টাগ্রাম। সাম্প্রতিক সময়ে ইনস্টাগ্রামের ব্যবসায়িক সুবিধার কারণে এর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। মাসিক ১০০ কোটি সক্রিয় ইউজার নিয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবের পরই ইনস্টাগ্রাম এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

ইউজার বাড়ার কারণে যেটি হয়েছে সেটি হলো ইনস্টাগ্রামও ফেসবুকের মতো অনলাইন ব্যবসার সহজ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। যে মাধ্যমে ব্যবহারকারী যত বেশি, সে মাধ্যমে ব্যবসা করাও তত সহজ। প্রথাগত ব্যবসা ছাড়াও ইনস্টাগ্রাম থেকে অর্থ আয়ের বহুবিধ উপায় রয়েছে। সেসব উপায় নিয়ে কথা বলবো আজ।

১. ফলোয়ার বৃদ্ধি করুন

যেকোনো মাধ্যমে অর্থ আয় করতে হলে প্রথমেই যে জিনিসটি প্রয়োজন, সেটি হলো ফলোয়ার। যত বেশি ফলোয়ার, তত বেশি অর্থ আয়ের সম্ভাবনা। কেননা, ফলোয়ার মানেই পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিকট ক্রেতা। আপনাকে মানুষ যত বেশি চিনবে, জানবে, আপনার প্রভাব তত বাড়বে। এভাবে আপনি হয়ে উঠবেন একজন ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটার

যত ফলোয়ার, তত প্রসার; Image Source: blog.sellfy.com

ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার বৃদ্ধির কিছু সহজ কৌশল রয়েছে। যেমন- অন্যদের ছবি লাইক করা, বেশি বেশি মানুষের সাথে মেশা, ফলো করার জন্য বলা, প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা, ইত্যাদি।

২. লিংক শেয়ার করুন

আপনার পোস্টগুলোতে নিয়মিত লিংক শেয়ার করুন। যত বেশি লিংক শেয়ার করবেন, আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটটি তত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছুবে। যেকোনো পোস্টেই লিংক শেয়ার করবেন না। যেসব ছবি দেখার পর অনুসারীদের মতে হবে আরো কিছু জানার বা দেখার প্রয়োজন, সেসব ছবির সাথে নিজের ওয়েবসাইটের প্রাসঙ্গিক লিংক শেয়ার করুন।

৩. ছবির কোয়ালিটি

ইনস্টাগ্রামে ব্যবসা করতে হলে কিংবা ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং করে আয় করতে হলে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ছবির মান ভালো হয়। ইনস্টাগ্রাম যেহেতু ছবি শেয়ারিং প্ল্যাটফরম, তাই ছবির কোয়ালিটি ভালো হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যে নিশেই ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং কিংবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকেন না কেন, অবশ্যই ডিএসএলআর কিংবা সমমানের কোনো প্রফেশনাল ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি তুলতে হবে।

ছবির মান একটি বড় নিয়ামক; Image Source: marketwatch.com

ধরুন আপনি ইনস্টাগ্রামে বডি ফিটনেস নিশে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন এবং একটি সাপ্লিমেন্টকে অ্যাফিলিয়েট পণ্য হিসেবে বিক্রয় করতে চাইছেন। এক্ষেত্রে আপনার অনুসারীরা আপনার পণ্যটি ক্রয় করবে আপনার শারীরিক উন্নতি যাচাই করে। তাই নিজের ফিটনেসের ছবি কিংবা জিমনেসিয়ামে ব্যায়ামরত ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করুন। ছবিগুলোর মান যত ভালো হবে, আপনাকে যত আকর্ষণীয় দেখাবে, আপনার পণ্যটি বিক্রি হবার সম্ভাবনা তত বাড়বে।

৪. ভিডিও শেয়ারিং

ইনস্টাগ্রামে সম্প্রতি ভিডিও শেয়ারিং অপশন চালু করেছে যার মাধ্যমে ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও শেয়ার করা যায়। ছবি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রচারের বস্তু। তবে ভিডিও ছবির চেয়ে শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। নিজের অনুসারীদের উপর নিজের প্রভাব বৃদ্ধি করতে তাই ছবির পাশাপাশি বেশি বেশি ভিডিও শেয়ার করুন।

ইনস্টাগ্রামে এখন ভিডিও শেয়ার করা যায়; Image Source: en.softonic.com

অধিকাংশ মানুষই তাদের আইডল বা সেলিব্রেটিদের অনুসরণ করতে এবং তাদের লাইফস্টাইল জানতে ব্যবহার করে। আপনার ফলোয়ার সংখ্যা যদি মোটামুটি বেশি হয়ে থাকে, (অন্তত ১০ হাজারের বেশি) তাহলেও আপনার ব্যবসায়িক লাভের সম্ভাবনা ফেসবুকের চেয়ে বেশি। তাই বেশি বেশি ভিডিও শেয়ার করে নিজের অনুসারীদেরকে নিজের লাইফস্টাইলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। এতে করে বিদ্যমান অনুসারীদের লয়্যালটি বাড়বে, সমাগম হবে নতুন অনুসারীরও।

৫. ফলোয়ারদের নিযুক্ত করুন

যদি ইনস্টাগ্রামে আপনার একটি ফলোয়ার বেইজ থেকে থাকে, তাহলে তাদের সাথে বেশি বেশি ইন্টারেকশন করুন, তাদেরকেও আপনার প্রচারণায় সংযুক্ত করুন। ভাবছেন তারা কেন আপনার প্রচারণা করে দেবে? উত্তরটা খুব সহজ, সেলিব্রেটিদের অনুসরণ করার মনস্তত্ত্ব।

হ্যাঁ, আপনি হয়তো খুব বড় কোনো সেলিব্রিটিও নন, আপনার হয়তো খুব বেশি ফলোয়ার নেই। তথাপি যারাই আছে, তারাও আপনার প্রচার এবং প্রসার বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে কোনোরূপ পারিশ্রমিক চাইবে না। তারা যেটা চাইবে, সেটা হলো আপনার খানিকটা ‘অ্যাটেনশন’ কিংবা স্বীকৃতি। নিয়মিত আপনার ফলোয়ারদের মধ্যে সবচেয়ে স্বক্রিয়দেরকে পোস্টে মেনশন দিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করুন, তাদের জন্য এটিই হবে বড় পারিশ্রমিক। এই ফলোয়ারদের মাধ্যমেই পরবর্তীতে আপনি আরো শত শত ফলোয়ার পাবেন।

৬. প্রতিযোগিতা বা ইভেন্টের আয়োজন

এ লেখার শুরুর দিকে বলা হয়েছে যে ফলোয়ার বাড়ানোর উপায়গুলোর একটি হলো ব্যবহারকারীদের ফলো করতে অনুরোধ করা। তবে, ইউজাররা আপনাকে কী কারণে ফলো করবে তা-ও তো পরিষ্কার করে বলতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং কার্যকর কৌশলটি হলো কোনো ইভেন্ট বা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।

ইভেন্টের আয়োজন করুন; Image Source: ticketbooth.com.au

ধরুন আপনি নির্দিষ্ট দিনে একটি ইভেন্টের আয়োজন করেছেন যে ইভেন্টে বিজয়ীদেরকে আপনি আপনার পণ্যটি বিনামূল্যে বিতরণ করবেন। এবার সেই ইভেন্টের লিংক চলতি ট্রেন্ডে হ্যাশট্যাগ সহ শেয়ার করে “বিজয়ী হবার জন্য” ফলো করতে আহ্বান করুন। এই আহ্বানমূলক লেখা আপনি ডিরেক্ট ম্যাসেজেও শেয়ার করতে পারেন। এতে করে ইভেন্টের আকর্ষণে অনেকেই আপনাকে ফলো করবে। এছাড়াও কুপন কিংবা লটারির ব্যবস্থা করেও আপনি প্রোফাইল শেয়ার করতে পারেন।

৭. ইনফ্লুয়েন্সার ভাড়া কিংবা ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ

উপরের প্রতিটি প্রক্রিয়া ছিল আপনার নিজের ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে নিজের ব্যবসা বা অ্যাফিলিয়েট লিংক পরিচালনা করা। তবে, যথেষ্ট সংখ্যক ফলোয়ার পেয়ে গেলে এবং যথেষ্ট প্রভাবশালী হয়ে গেলে আপনাকে কেবল নিজের ব্যবসাতেই লেগে থাকতে হবে না, বরং অন্যের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করতে পারেন আপনি।

আবার এমন যদি হয় যে আপনি নিজে ইনফ্লুয়েন্সার নন কিন্তু আপনার অ্যাফিলিয়েট ব্যবসা আছে, তাহলে আপনি ইনস্টাগ্রামে যেকোনো উঠতি ইনফ্লুয়েন্সার ভাড়া করতে পারেন। কত ফলোয়ার বিশিষ্ট ইনফ্লুয়েন্সার ভাড়া করবেন সেটি নির্ভর করবে আপনার বাজেটের উপর। ভাড়া করা ইনফ্লুয়েন্সারের মাধ্যমে আপনার পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন হাজারো ক্রেতার কাছে।

ফিচার ছবি- moneyconnexion.com

Written by MS Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সফলভাবে ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতে যে কৌশলগুলো অবলম্বন করবেন