অনলাইন ডাটা এন্ট্রি: ঘরে বসেই আয়

ঘরে বসে আয়ের ব্যাপারে উৎসাহী মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। সময়ের সদ্ব্যবহার এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার ইচ্ছা থেকেই মূলত ফ্রিল্যান্সিংয়ের ধারণাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের নানা ক্ষেত্র থাকলেও তুলনামূলক সহজ কাজটি হলো ডাটা এন্ট্রি। এতে ক্লায়েন্ট দ্বারা ফরমায়েশকৃত নির্দিষ্ট ডাটা প্রস্তুত করে প্রেরণ করতে হয়।

সময়কে সম্পদে পরিণত করুন ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে; Image Source: Broxer.com

যারা স্বল্প শ্রমে ঘরে বসেই আয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে তাদের নিকট ডাটা এন্ট্রির কাজটি বেশ জনপ্রিয়। কোনো বিশেষ গুণ কিংবা খটমটে বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না একাজে। কম্পিউটার বিষয়ক মৌলিক দক্ষতা থাকলেই এ কাজে দক্ষ হওয়া যায়। অপরদিকে পৃথিবীর এক প্রান্তে বসেও অপর প্রান্তের কোনো কোম্পানির কাজ করে দেওয়া যায় মুহূর্তেই। অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রে রয়েছে অপরিমেয় স্বাধীনতা।

তবে ডাটা এন্ট্রিকে একটি সাধারণ কপি-পেস্টের কাজ ভাবলে চলবে না। অত্যন্ত সহজ উপজীব্য হওয়া সত্ত্বেও আগ্রহী ব্যক্তির কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর দক্ষতা থাকতে হবে। কেননা সম্পূর্ণ কাজটি পরিচালিত হবে কম্পিউটারের মাধ্যমে। টাইপিংয়ে পারদর্শীতা এ কাজের প্রথম শর্ত। দেখা যায়, বেশিরভাগ কোম্পানি ঘন্টা হিসেব করে নয় বরং কাজ হিসেবে ডাটা এন্ট্রি ক্লার্কদের সাথে চুক্তি করে থাকে।

ফলে টাইপিং যত কম সময়ে এবং নির্ভুলভাবে করা যায়, কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেড়ে যায়। ডাটা এন্ট্রিতে কোনো কাজ কতক্ষনে শেষ করা হলো তা মুখ্য নয়, কাজটি শেষ হয়েছে কিনা সেটিই মুখ্য। অর্থাৎ, এক ঘন্টায় কাজ সম্পন্ন করে একজন কর্মী যে আয় করবে, এর চেয়ে অধিক সময় ব্যয় করেও অন্যজন একই পরিমাণ আয় করবে। সাধারণত মিনিটে ৪০টি শব্দ টাইপ করতে পারাকে উচ্চগতির টাইপিং হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রথমেই এক্সেল এবং শিটের কাজ শিখে নিতে হবে; Image Source: thenextweb.com

টাইপিং স্কিলের পাশাপাশি গুগল শিট (Google sheet) ও মাইক্রোসফট এক্সেলে (Microsoft Excel) দক্ষ হতে হয়। নিয়মিত ব্যবহারকারীরা গুগল শিট বা মাইক্রোসফট এক্সেলে খুব সহজে কাজ করতে পারলেও নতুনদের নিকট এর ব্যবহার কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। এক্ষেত্রে ঘাবড়ে না গিয়ে অনলাইনে এ বিষয়ে নানা টিউটোরিয়াল কোর্স থেকে সাহায্য নিতে হবে। অনেকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (Microsoft Word) কিংবা পাওয়ারপয়েন্ট (PowerPoint) ব্যবহার করে থাকেন। তাই এই দুটির ব্যবহার শিখে নিলে ভালো হয়।

কম্পিউটারে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতাও আয়ত্ত করতে হবে। যদি কম্পিউটারে বিভিন্ন ফাইল ও ফোল্ডার সুশৃঙ্খলভাবে সেইভ করা যায়, তবে অন্য সময় এটি কাজে লাগতে পারে। তাছাড়া নিয়মিত মেইল চেক করা ডাটা এন্ট্রি কাজের আরেকটি মূল শর্ত। কেননা মেইলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে থাকে বেশিরভাগ সময়। আবার ফাইলগুলো কীভাবে সাজালে ডাটা এন্ট্রির কাজটি ক্লায়েন্টের নিকট আকর্ষণীয় মনে হবে এ বিষয়ে আগে থেকেই মনস্থির করে নেওয়া উচিত। কাজের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকতে হবে।

বসেই আয় এখন অকল্পনীয় কিছু নয়; Image Source: olx.com

এখন আসা যাক আয়ের কথায়। সহজে টাকা কামানো গেলেও প্রতিটি কাজ থেকেই যে আহামরি আয় হবে সে সম্ভাবনা খুব কম। তবে নিয়মিত কাজ করলে প্রতিদিন যে আয় হয় তার পরিমাণও মন্দ নয়। সাধারণত একজন অভিজ্ঞ ঘরে ডাটাএন্ট্রি ক্লার্ক ঘণ্টায় ১৫ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,৩০০ টাকা আয় করে থাকে।

কিন্তু যারা সবেই শুরু করেছে তাদের ক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ অত বেশি নয়। এই ক্ষেত্রটিতে অভিজ্ঞতা অনুসারেই পারিশ্রমিক দেয়া হয়। তাই নতুনদেরকে দমে না গিয়ে লেগে থাকতে হবে। অধ্যবসায়ই জীবনে অর্থপ্রাপ্তি ঘটাবে উল্লিখিত বিষয়গুলো আয়ত্বে আনতে পারলে যে কেউই ডাটা এন্ট্রি কাজে অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে। তবে কাজে লেগে যাওয়ার পূর্বে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে:

  • স্ক্যাম: আপনার মূল্যবান সময় এবং শ্রম উভয় ভেস্তে যাবে যদি আপনি কোনো স্ক্যামের ফাঁদে পরেন। এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে ডাটা এন্ট্রি করে ন্যূনতম পারিশ্রমিকটুকু পাওয়া যায় না। এসব স্ক্যাম থেকে দূরে থাকাই ভালো কেননা এতে আপনার কোনো লাভ হচ্ছে না।
  • অবিশ্বাস্য অফার: কোনো সাধারণ কাজের জন্য অসাধারণ আয়ের প্রলোভন অনেক ওয়েবসাইট দেখিয়ে থাকে। সামান্য কাজের জন্য ক্লায়েন্ট অসামান্য পারিশ্রমিক দিবে তা কখনো ভাববেন না। এসব অফার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
  • “আয়ের জন্য ব্যয়” কে না বলুন: অনেক সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এমন কিছু কাজের অফার দেয়া থাকে যেখানে কাজ পাওয়ার জন্য প্রথমে কিছু অর্থ ব্যয় করতে বলা হয়। নতুন ফ্রিল্যান্সাররা এরকম ধোকার জালে প্রায়ই আটকে পড়ে। এসব দেখামাত্রই প্রত্যাখ্যান করুন।
  • দক্ষতা থাকলে পুনরায় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই: এমন অনেক নিয়োগকারী রয়েছেন যারা কাজ দেওয়ার পূর্বে কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিতে বলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর কথা বলে কর্মীদের থেকে ফ্রিতে তারা নিজেদের কাজ করিয়ে নেয়।

দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আপনাকে নিয়ে যাবে উন্নতির শিখরে; Image Source: aasaansjobs.com

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে ডাটা এন্ট্রির ক্ষেত্রে একজন দক্ষ কর্মী হতে হলে কোনো জটিল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে না। কম্পিউটার সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান রাখার সাথে সাথে ইন্টারনেট জগতে চোখ-কান খুলে চলতে পারলেই এ কাজে দক্ষতা লাভ করা যাবে। তবে স্ক্যামের পড়ার ভয় থাকেই। এক্ষেত্রে নবীনদের উপযোগী কিছু বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইটের নাম দিয়ে দেওয়া হলো- Flexjobs, Microworkers, Scrible, Birch creek communication ইত্যাদি। এসকল ওয়েবসাইটের সাহায্যে তারা নির্বিঘ্নে তাদের ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে। অতএব, সাহস এবং ইচ্ছে থাকলে কিছু কম্পিউটার কোর্স করেই ডাটাএন্ট্রির কাজ শুরু করে দিন।

ফিচার ছবি- learning.shine.com

Written by Lameesha Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কিভাবে একজন সফল অনলাইন ফিটনেস কোচ হবেন

৭টি পথ অনুসরণ করে হয় উঠুন একজন সফল ট্রাভেল ব্লগার।