৭টি উপায়ে অনলাইন শিক্ষক হিসেবে আয় করুন ঘরে বসে

পড়তে অনেকের ভালো না লাগলেও পড়াতে অনেকেরই ভালো লাগে। কেউ কেউ আবার নিজ পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যদের পড়িয়েও থাকেন। এতে যেমন পড়ালেখার চর্চাটি থাকে, তেমনি কমবেশি আয় হয়। তাইতো “পড়াতে চাই” বিজ্ঞপ্তিটি আমাদের নিকট এতো পরিচিত। অলিতে-গলিতে দেয়ালের গায়ে সেঁটে থাকা এমন নোটিশগুলো চোখে পড়ে কমবেশি। 

একজন অনলাইন-শিক্ষকের কল্পিত চিত্র; image source: chronicle.com

তবে শিক্ষক হওয়ার প্রেরণায় শিক্ষার্থী অন্বেষণের কঠিন কাজটি আজকালকার দিনে সহজ হয়ে গিয়েছে ইন্টারনেটের কল্যাণে। রাস্তায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বা পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে একটি টিউশন জুটিয়ে দেয়ার জন্য আর ফিরিস্তি দিতে হয় না। একজন অনলাইন শিক্ষাবিদ হওয়ার জন্য আপনার লাগবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান এবং ইন্টারনেটের কানেকশন। ব্যাস!

পাঠ পরিকল্পনা করার আগে প্রস্তুতি নিতে হবে; image source: fluentu.com

“স্বশিক্ষা” শব্দটি মাথায়  গেঁথে নিন। কারণ একজন অনলাইন শিক্ষক হতে হলে আপনাকে প্রতিনিয়ত নিজ উদ্যোগে শিখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত নন। ফলে আপনার শিক্ষার্থীরা তা শিখবে যা আপনি তাদের জন্য নির্ধারণ করবেন। আবার আপনাকে যে সকল বিষয়ে পটু হতে হবে এমনটিও নয়। কোনো একটি বিষয় নির্বাচন করে তা নিয়ে কয়েকদিন পড়াশোনা করুন, নানান তথ্য সংগ্রহ করুন। আপনাকে সে বিষয়ে প্রফেসর হতে হবে না, শুধুমাত্র আপনার শিক্ষার্থীর তুলনায় সে বিষয় সম্পর্কে আপনাকে বেশি জানতে হবে। অনলাইন শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি সহজ কৌশল।

ভিডিও প্লাটফর্মের সহায়তায় আপনার তৈরি কোর্স প্রদান করতে পারবেন; image source: education.cu-portland.edu

অনলাইন শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে প্রথমে আপনাকে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে এটি পুরো প্রক্রিয়াটির তুলনামূলক সহজ ধাপ। কঠিনতর ধাপটি হল শিক্ষার্থী সংগ্রহ করা এবং আপনার তৈরি করা কোর্সগুলো গ্রাহকেরা যাতে ক্রয় করে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া। এ ধাপটি সহজে পার করতে হলে যে ৭টি উপায় আপনাকে সাহায্য করতে পারে তা তুলে ধরা হলো-

  • নিজস্ব ব্লগ তৈরি- অবাক শোনালেও যাদের নিজস্ব ব্লক রয়েছে তারা যে কোনো স্টার্টআপে পরিচিতি বেশি পেয়ে থাকেন। শিক্ষক হতে চাইলে তাই ব্লগের সাহায্য নেয়া সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ। কেননা ব্লগের মাধ্যমে আপনি নিজের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং করণীয় তুলে ধরতে পারেন। ফলে শিক্ষার্থীরা আপনার পাঠ পরিকল্পনার একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবে। এতে করে কিছুদিনের মধ্যে আপনার নিজস্ব অনুসারী গড়ে উঠবে যারা পরোক্ষভাবে আপনার কোর্সগুলোকে প্রচার করে থাকবে।
  • অনলাইন কোর্স তৈরি- অনলাইন কোর্স তৈরি শুধু আপনার চিন্তার বিষয় নয়, এটাকে কোন মাধ্যমে তুলে ধরবেন তাও ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন প্রচলিত কোনো ভিডিও প্লাটফর্মের সহায়তা নেওয়া। ইউটিউব একটি মাধ্যম হতে পারে তবে এটি থেকে তাৎক্ষণিক আয় সম্ভব নয়। বর্তমানে অনেক ধরনের অনলাইন-কোর্স মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে আপনি আপনার কোর্সগুলো বিক্রয় করতে পারবেন। এসব মার্কেটপ্লেসের আরেকটি সুবিধা হলো এখানে আগে থেকে শিক্ষার্থীরা থাকে। ফলে আপনাকে শ্রোতা পেতে অত কষ্ট করতে হবেনা।
  • ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে লেখালেখি- অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে আপনি প্রথমেই সফলতা পাবেন না। কিন্তু অর্থের সংকুলান করতে ফ্রিল্যান্স লেখালেখিকে বেছে নিতে পারেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স লেখকদের কদর রয়েছে। লেখালেখির ক্ষেত্রে আপনার লেখার ধরন ও ভাষাকে এখানে প্রাধান্য দেয়া হবে। এছাড়া অনুসন্ধান করার ক্ষমতা থাকলে আপনি অনলাইন দুনিয়ার একজন লেখক হতে পারবেন। কিন্তু আপনাকে তখনই নিয়োগ দেয়া হবে যখন আপনার নমুনা লেখাটি নিয়োগদাতার মনে ধরবে। সুতরাং, এখানেও ব্লগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ ব্লগের মাধ্যমে আপনি আপনার নমুনা লেখাগুলো প্রকাশ করতে পারবেন।
সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবেও কাজ করা যায়; image source: blog.wiziq.com
  • স্বপ্রকাশিত বই- নিজের একটি বই প্রকাশ করে ফেলুন! ধারণাটি মোটেই হাস্যকর নয়। বইটির যে মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশ করতে হবে তা বলছি না। অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেক নব্য লেখকদের বই বিক্রয় হয় থাকে, যেমন- অ্যামাজন। এখানে বইটি পিডিএফ ফাইল আকারে বিক্রয় করা হবে। কিন্তু এর মূল্য তুলনামূলক কম নির্ধারণ করা হবে। তবে বিন্দু বিন্দু জলেই তো সিন্ধু গড়ে ওঠে। আপনার লেখার মান ভালো হলে দ্রুতই পাঠক জুটে যাবে।
  • পাঠক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম- শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুগম্ভীর বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে যে আজ শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের সহায়তায় নেয় তা নয়। ইন্টারনেট ব্যবহারের উপকারিতার ব্যাপকতা এখানেই। DIY অথবা “ডু ইট ইয়োরসেল্ফ” বর্তমানে অনলাইন শিক্ষকদের নিকট একটি জনপ্রিয় আধেয়। আপনিও কোনো বিষয়ে পারদর্শী হয়ে থাকলে নিজের প্রতিভাকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং এতে আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
  • পাঠ পরিকল্পনা বিক্রয়- প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এ সমাজে শিক্ষকের কমতি নেই তা আগেই বলা হয়েছে। একেক শিক্ষকের পাঠ পরিকল্পনা তাই হয়ে থাকে একেকরকম। কেননা সকলেই কাজে বৈচিত্র্য আনতে চান। তবে এমন শিক্ষক রয়েছেন যারা এতে প্রচুর সময় ব্যয় করতে চায় না এবং অন্যের প্রদানকৃত পরিকল্পনা ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন ধরনের পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করে তা বিক্রয় করতে পারেন।

ফিচার ছবি- pinterest.com

Written by Lameesha Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে সফল সোশ্যাল মিডিয়া কনসালটেন্ট হোন

৭টি কৌশল যা আপনার ভিডিও এডিটিং দক্ষতাকে করবে আরও উন্নত