ওয়েব ডেভলপমেন্ট শেখার খুঁটিনাটি

টেক জগতে নিজের পদচিহ্ন রেখে অনেকেই বর্তমানে সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পেরেছে। কেউ খন্ডকালীন তো কেউ পূর্ণকালীন চাকরি হিসেবে ফ্রিল্যান্সিনংকে বেছে নেন। কাজের সময়কাল যাই হোক না কেন, ফ্রিল্যান্সিং এমন এক কর্মক্ষেত্র যেখানে শেখার নিরলস প্রচেষ্টা  না থাকলে সুবিধা করা যায় না। কারণ আপনি যে ক্ষেত্রে কাজ করতে চাচ্ছেন তাতে সম্পূর্ণ রূপে দক্ষ না হলে কাজের জন্য আশাতীত মূল্য পাবেন না।

বর্তমান ফ্রিল্যান্সিনংয়ের সেরা ১০টি ক্ষেত্রের মধ্যে নিঃসন্দেহে ওয়েব ডেভলপিং প্রথম সারির পেশা। এ কাজের চাহিদা দিন কে দিন বেড়েই চলছে এবং এটি থেকে তুলনামূলক আয়ও করা যায় বেশি। শুধু ফ্রিলেন্সিং না, বিভিন্ন আইটি ফার্মে  আকর্ষণীয় বেতনে ওয়েব ডেভলপারেরা চাকরি পেয়ে থাকেন। 

ওয়েব ডেভলপমেন্টের সহায়ক নানা ভাষা; Image Source: sites.google.com

তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে ওয়েব ডেভলপিং শব্দযুগল অচেনা হওয়ার কথা নয় কারোরই। বিনোদন, কাজ অথবা কোনো বিষয় নিয়ে জানার জন্য আমরা প্রতিদিনিই নানা ওয়েবসাইটের শরণাপন্ন হই। এই ওয়েবসাইটগুলো আমরা যেরকমটা দেখতে পাই তা নির্মাণের প্রাথমিক কাজ হলো ওয়েব ডিজাইনের অংশ। আর ওয়েব পেজ গুলো ব্যবহারকারীদের নিকট যেভাবে দৃশ্যমান হবে তা কোডিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তুত করাকেই ওয়েব ডেভলপিং বলে।

ওয়েব ডেভলপিংয়ের আবার দু’টি ভাগ রয়েছে- ফ্রন্ট এন্ড এবং ব্যাক এন্ড ডেভলপিং। দু’টির কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন বিধায় কোনো ব্যক্তি যে কোনো একটি বিষয় শিখতে পারে। আবার অনেকে একটায় দক্ষ হয়ে গেলে অপরটিও শিখে নেয়। এখানে উল্লেখ্য যে, ওয়েব ডেভলপিংয়ের কাজ শেখা আদতে অতটা সহজ নয়। সময় এবং শ্রম দুটোই দিতে হবে নির্দ্বিধায়। এ বিভাগে নতুন হলে কোনো ফ্রিল্যান্সিং ফার্মের সহয়তা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যদিও এ বিষয়ক কোর্সগুলো ব্যয়বহুল হয়ে থাকে।

তবে অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ওয়েব ডেভলপিং শেখার সাইট রয়েছে যেগুলোর সাহায্য নেয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মূল যে সমস্যাটির সম্মুখীন হতে হবে তা হলো- কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস অনুযায়ী না আগানো। কেননা আপনি এখানে নিজেই নিজের পথ প্রদর্শক। তাই দায়িত্ব নিয়ে সময় বেধে শিখতে হবে এবং মাঝে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।

সফলতার চার মূলমন্ত্র- শ্রম,সাধনা,সময়,অর্থ; image source: buzrush.com

ওয়েব ডেভলপিং শিখতে শিখতে আপনি নিজেই নিজের একটি ধৈর্য পরীক্ষা নিয়ে নিতে পারবেন। দিনে ৬-৭ ঘন্টা যদি ব্যয় করতে পারেন এটি শেখার পেছনে, তবে ৫/৬ মাসের মধ্যে একজন দক্ষ ওয়েব ডেভলপার হিসেবে নিজেকে দেখতে পাবেন। কারো কারো ক্ষেত্রে এ সময়কালটি আরো দীর্ঘ হতে পারে, যদিও এখানে মেধা নয় শ্রমই আসল।

কয়েক লক্ষ ওয়েবসাইটের বিপরীতে কয়েক কোটি ওয়েব ডেভলপার পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে এবং ওয়েব ডেভলপিং শিখে নেয়ার পর তাদের সাথে যুক্ত হবেন আপনি। তীব্র প্রতিযোগিতামূলক এ  সমাজে তাই আপনাকে হতে হবে সেরা। নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে ওয়েব ডেভলপিংয়ের প্রতিটি টুল এবং ভাষার সাথে। ভাষা বলতে এখানে বাংলা/ ইংরেজি বোঝানো হচ্ছে না, ওয়েব ডেভলপিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে হয় বিশেষ কিছু ভাষা যা কম্পিউটারের বোধগম্য হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে মানব সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ করতে অবশ্যই ইংরেজি জানা প্রয়োজন। 

ওয়েব ডেভলপিং বিষয়ে পারদর্শী হতে হলে কোন কোন বিষয়ে দক্ষ হতে হবে তা তুলে ধরা হলো- 

ফ্রন্ট এন্ড ডেভলপমেন্ট

এ বিভাগের ডেভলপারেরা ডিজাইন এবং কাঠামো তৈরি, ওয়েবসাইটটির বাহ্যিক কাঠামো নিয়ে কাজ ও ক্লায়েন্ট সাইড কোড করে থাকে। এসব কাজ সম্পাদনা করতে যেসব ভাষার ব্যবহার হয় তা উল্লেখ করা হলো-

ফ্রন্ট এন্ড ডেভলপমেন্টের ৩ গুরুত্তপূরর্ণ ভাষা; image source: teccdrop.blogspot.com
  • HTML ও CSS– ডেভলপিং শেখার ক্ষেত্রে প্রাথমিক শর্ত হলো HTML এবং CSS শেখা। কেননা ওয়েবসাইটের সম্মুখভাগ গঠনে HTML দরকার পড়ে আর CSS দ্বারা ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন অর্থাৎ, রঙ, বিন্যাস, নকশা, অক্ষরের ধরন ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়।
  • JAVASCRIPT- দর্শক প্রান্তে সাইটে এনিম্যাশন প্রদর্শনের জন্য Javascript ব্যবহৃত হয়।  এছাড়াও অন্যান্য ফাংশনাল কাজ করার জন্য ব্যবহার করা হয় জাভাস্ক্রিপ্ট। এটি একটি স্ক্রিপটিং পোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। এর দ্বারা সাইটটিকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়।
  • FRAMEWORK- কোডিং কে সহজ করতে রয়েছে নানা ধরেনের Framework। একেক কাজের জন্য Framework থাকে আলাদা আলাদা, এগুলোতে নির্দষ্ট কাজের উপযোগী অতিপ্রচলিত কোডগুলো লিপিবদ্ধ থাকে। প্রোগ্রামার এখান থেকে কোড নিয়ে ব্যবহার করতে পারে ফলে সময় লাগে কম। Javascript এর দু’টি Framework হলো Jquery ও Angular.js।
    Jquery এর সাহায্যে কয়েক লাইনের একটি কোড কে সংক্ষেপে লিখে ফেলা যায়। দ্রুত গতিতে কোনো অ্যাপ্লিকেশনকে চালানোর জন্য Angular.js এর ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে ওয়েবসাইট নির্মানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়  Bootstrap। এর মাধ্যমে অতিদ্রুত মোবাইলে ব্যবহার উপযোগী, রিসপনসিভ ওয়েব সাইট তৈরি করা যায়। 

ব্যাক এন্ড ডেভলপমেন্ট  

এ বিভাগের ডেভলপারেরা পার্শ্ব কোডিং, অ্যালগরিদম তৈরি এবং ওয়েবসাইটগুলোর কার্যকারিতা তৈরি করে থাকে। এসব কাজ সম্পাদন করতে যেসব ভাষার ব্যবহার হয় তা উল্লেখ করা হলো-

দু ধরনের ওয়েব ডেভলপমেন্টের তুলনামূলক পার্থক্য; image source: dev.to
  • PHP- বেশীরভাগ ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ্লিকেশন এর সাহায্যে নির্মিত হয় কারণ এটির ব্যবহার সোজা। এর জনপ্রিয় Framework ল্যরাবেল ও CodeIgniter যার সাহায্যে কম সময়ে কাজ করে ফেলা যায়। এছাড়াও সার্ভার সাইড ভাষা হিসেবে node.js ব্যবহৃত হয়।
  • ASP.NET- ব্যবসায়িক কিংবা অফিসিয়াল কাজের জন্য যে ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে তা তৈরি করা হয় এর সাহায্যে। এটি তুলনামূলক কঠিন। 
  • PYTHON- এটি আরেকটি প্রোগ্রামিং ভাষা যার সাহায্যে কম কোড লিখে বেশী কাজ করা যায়। নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশন, সফটওয়্যার ও ওয়েব গেম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এর উদাহরণ হলো Flask, Pyramid, Django যা দিয়ে দ্বারা দ্রুত অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপমেন্ট করা যায়। 
  • DATABASE TECHNOLOGY- ওয়েবসাইটের ডাটা সংরক্ষণের জন্য ডাটাবেজের প্রয়োজন পড়ে। MySQL ,noSQL এর মত ডাটাবেজগুলোর বহুল ব্যবহার দৃশ্যমান। 

এখন প্রশ্ন হলো আপনি এসব বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষ হলেই কি নিয়োগদাতারা আপনাকে নিয়োগ দিবেন? অবশ্যই দিবেন কিন্তু এ পর্যায়ে যেতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে। একটি নমুনা ওয়েবসাইট তৈরি করে তা পোর্টফলিওতে যুক্ত করতে হবে কেননা আপনার কাজ দেখেই আপনার দক্ষতা বিচার করবেন নিয়োগদাতারা। 

Written by Lameesha Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যে ১০ টি গুণ ব্লগার হিসেবে আপনাকে করে তুলবে অনন্য