ই-কমার্সের আদ্যোপান্ত

ই-কমার্স কী?

ই-কমার্স বা ইলেকট্রনিক কমার্স হলো এমন যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম যা ইলেকট্রনিক বা অনলাইন মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। এর সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হতে পারে অনলাইন শপিং। অনলাইনে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনাই ই-কমার্স।

অনলাইনে ব্যবসার আরেক নাম ই-কমার্স; Image Source: lightcastlebd.com

বর্তমান সময়টা যে তথ্যপ্রযুক্তিরই সময় তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিনিয়ত তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে বাড়ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। ক্রমেই অধিক সংখ্যক মানুষ যুক্ত হচ্ছে নেটওয়ার্কে। ফলে অন্যান্য বিষয়ের মতো অর্থ-বাণিজ্যিক বিষয়াদিও চলে এসেছে ইন্টারনেটে। ক্রমাগত প্রসারিত হতে থাকা ই-কমার্সের বাজার ২০২০ সালের মধ্যে ৪ ট্রিলিয়ন ছাড়াবে!

যেভাবে শুরু করবেন

নিজের ই-ব্যবসা শুরুর জন্য প্রথমেই যা করবেন তা হলো বাজার সম্বন্ধে সম্যক ধারণা নেয়া। এতে আপনি অনুধাবন করতে পারবেন বাজারের বর্তমান ট্রেন্ড কী, কীভাবে ট্রেন্ড পরিবর্তন হয়ে যায়, কেন পরিবর্তন হয়, বাজারে কোনো পণ্যের চাহিদা কতদিন টিকে থাকে, ইত্যাদি বিষয়। যেহেতু আপনার ব্যবসা অনলাইনে, তাই অনলাইন বাজারেই আপনার চোখ থাকবে। দেশের যত বড় বড় অনলাইন ব্যবসায়ী আছে তাদের প্রোফাইল দেখে ফেলুন, তাদের বেচাকেনা ও পণ্যের ধরন জানুন।

বাজার নিয়ে গবেষণা করবার পর এবার নিজের নিশ ঠিক করবার পালা। নিশ হলো কোনো একটি বিশেষ ধারা, যে ধারায় আপনি আপনার ব্যবসাটি পরিচালনা করতে চাচ্ছেন। পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আপনি নিশ্চয়ই অনেক প্রকারের পণ্যই বিক্রয় করতে চাইবেন। তবে সে প্রকারগুলোও যেন একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির হয় সে ব্যাপারে লক্ষ রখুন। এই শ্রেণিটিই হবে আপনার নিশ।

অনলাইন মার্কেটের ট্রেন্ড অনুসরণ করতে হবে; Image Source: cleanpng.com

নিশ ঠিক করার ক্ষেত্রে বাজারের ট্রেন্ড অনুসরণ করুন, কোন নিশটি জনপ্রিয় তা খুঁজে বের করুন। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে ওয়েব ডেভলপিং, ফিটনেস পণ্য কিংবা গৃহ সজ্জার পণ্যের নিশগুলো অধিক জনপ্রিয়। কেবল বর্তমান দিয়ে নয়, উঠতি নিশ যা কিনা খুব শীঘ্রই অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করবে, সেটি দিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার ব্যবসা। যে নিশটি বাছাই করবেন, সেটির সকল প্রকার পণ্যই বিক্রয় করতে পারেন, তবে নিশের বাইরে না যাওয়াই ভালো।

নিশ বাছাইয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ই-ব্যবসাগুলোর হালহাকিকত যাচাই করা। এক্ষেত্রে ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামই সবচেয়ে এগিয়ে। ফেসবুকে কিংবা ইনস্টাগ্রামে বড় বড় পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো কিংবা পণ্যের মডেলরা বা অ্যাফিলিয়েটরা কী ধরনের পণ্য বিক্রয় করেন এবং কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেগুলো লক্ষ করুন।

যাত্রা শুরু

বাজার গবেষণা ও নিশ বাছাই সম্পন্ন হলেই যাত্রা শুরু করে দিতে পারেন। প্রথমেই নিজের নিশের অন্তর্ভুক্ত এবং বাজারে চাহিদা আছে এরকম ২০ থেকে ৩০টি পণ্য বাছাই করুন যেগুলো দিয়ে প্রাথমিকভাবে নিজের ব্যবসাটি শুরু করতে চাচ্ছেন। এরপর শোপিফাইয়ে নিজের অনলাইন শপটি চালু করে ফেলুন।

শোপিফাইনে একটি অনলাইন স্টোর লঞ্চ করতে কোনো খরচ হয় না এবং প্রথম ১৪ দিন ফ্রি ট্রায়াল করতে দেয়া হয়। এ ১৪ দিনে যথেষ্ট বেচাকেনা হলে অনলাইন স্টোরটি চালু রাখতে পারবেন এবং নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে এর মালিকানা নিতে পারবেন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্লাগিন ব্যবহার করে নিজের শপটি আরো সুন্দর করতে পারেন।

শোপিফাইয়ে অনলাইন স্টোর চালু করুন; Image Source: outofthesandbox.com

শোপিফাইয়ে না করতে চাইলে নিজস্ব সাইটও খুলে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে কিছু বাড়তি খরচ হবে। তাছাড়া সাইটের রিচ বাড়াতে বুস্ট করার জন্যও খরচ হবে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে এসব কাজ এখন অনেক সহজ।

অনলাইন শপটি সচল করার পর প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো পেমেন্ট পদ্ধতি যোগ করে দেয়া। শোপিফাইয়ে ‘শোপিফা পেমেন্ট’-এর মাধ্যমে কিংবা কোনো থার্ডপার্টি পেমেন্ট পদ্ধতি যেমন- পেপাল বা স্ট্রাইপের মাধ্যমে পেমেন্ট প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারেন।

সংক্ষিপ্ত পরিসরে শুরু করুন

প্রাথমিকভাবে ছোট পরিসরে শুরু করুন। আলিবাবা বা অ্যামাজনে নিজের বাছাইকৃত পণ্যগুলোর ক্যাটাগরি অনুসারে অল্প অল্প করে অর্ডার করুন। প্রথমে একটি পণ্য অর্ডার করুন। যদি ডেলিভারিতে সন্তুষ্ট হন তাহলে পরবর্তীতে অধিক পণ্য আনুন, অন্যথায় সাপ্লায়ার পরিবর্তন করুন। মনে রাখবেন, ই-কমার্সে উন্নতির সবচেয়ে বড় উপায় হলো সময়মতো সাপ্লাই।

মার্কেটিং

মার্কেটিংয়ের জন্য প্রথমেই বেছে নিতে পারেন ফেসবুক। ফেসবুকে একটি পেজ খুলে ফেলুন নিজের অনলাইন শপের নামেই। এই পেজের জন্য লেখক এবং কিউরেটর নিয়োগ করুন। কিংবা প্রাথমিকভাবে কাজ অল্প হলে নিজেও এসব কাজ করতে পারেন। যা-ই হোক, পেজটিতে নিশ অনুযায়ী প্রতিদিন মানসম্পন্ন পোস্ট করুন।

ধরুন আপনার নিশ ফিটনেস পণ্য। তাহলে বডি ফিটনেস, স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যায়ামের উপকারীতা, ব্যায়ামে প্রয়োজনীয় পণ্য, এসব নিয়ে মানসম্মত ব্লগ, ভিডিও, ইত্যাদি শেয়ার করুন পেজে। সেসবের সাথে জুড়ে দিন আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন। প্রতিদিনই অন্তত একটি পণ্য বুস্ট করে অধিক ক্রেতার নিকট ছড়িয়ে দিন।

সফল মার্কেটিং মানে সফল ব্যবসা; Image Source: salesforce.com

তবে ই-কমার্সের জন্য বর্তমানে ফেসবুকের চেয়েও ভালো প্রচার মাধ্যম হলো ইনস্টাগ্রাম। ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ইনফ্লুয়েন্সার রয়েছে যাদের আছে লক্ষাধিক ফলোয়ার বা অনুসারী। আপনি এসব ইনফ্লুয়েন্সারের সাথে যোগাযোগ করে নিজের বাজেট অনুযায়ী দরদাম ঠিক করে শুরু করতে পারেন নিজের পণ্যের প্রচারণা।

সবশেষে মাথায় রাখতে হবে যে ই-কমার্সে উন্নতির মূল চাবিকাঠি রয়েছে ক্রেতার সন্তুষ্টি এবং সফল প্রচারণায়। আপনি আপনার পণ্যটি যত আকর্ষণীয় উপায়ে প্রচার করতে পারবেন, আপনার পণ্যের বিপণন তত বাড়বে। তবে অবশ্যই এমন পণ্য বিক্রয় করুন যেটি ব্যবহারে ক্রেতা সন্তুষ্ট হবে। কেননা, ক্রেতার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছাড়া পণ্যের শত প্রচারণাও এর বিপণন বাড়াতে পারবে না।

ফিচার ছবি- mediaindia.eu

Written by MS Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে যে ১০টি ভুল এড়িয়ে চলবেন

যেভাবে একটি আদর্শ লিস্ট আর্টিকেল লিখবেন