অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে যে ১০টি ভুল এড়িয়ে চলবেন

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়মিত অর্থ বা কমিশন আয়ের একটি জনপ্রিয় উৎস ইন্টারনেটপ্রেমী, উদ্যমী মার্কেটারদের জন্য। এই ক্ষেত্রটি অনেক আকর্ষনীয় হলেও অনেক নতুনরাই বুঝে উঠতে পারেন না এখানে শুরু করবেন কিভাবে বা ঠিক পথটি বেছে নেওয়ার ফর্মুলাটাই বা কি। এক্ষেত্রে শুরুর দিকের অনেক ভুলই ক্ষতিকর মনে হয়না। কিন্তু পরবর্তীতে গিয়ে এই ভুলগুলোই আয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের এমন চিহ্নিত ১০ টি ভুল নিয়েই আজকের আলোচনা, যা কখোনই করা উচিৎ নয়-

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইন্টারনেট প্রেমী মার্কেটারদের জনপ্রিয় আয়ের উৎস, Image source: encrypted-tbn0.gstatic.com

. সেই শাখায় কাজ করা যেখানে আপনার কোনো আগ্রহ নেই

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটে কাজ করা এবং হাজার লোকের ভীড়ে অনন্য হয়ে সফল হওয়া বেশ কঠিন। আপনাকে প্রতিদিন আপনার শতভাগের চেয়েও বেশি দিতে হবে যদি আপনি এখানে সফল হতে চান। কিন্তু এমন একটি কাজের ক্ষেত্র যদি আপনি বেছে নেন যার প্রতি আপনার কোনো আবেগই নেই, তাহলে আপনি ব্যর্থ হতে বাধ্য। আপনার উন্মাদনাকে নাড়া দেয় এমন কিছুর মার্কেটিং যদি আপনি করেন, সহজে ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দ অনুভন করতে পারবেন এবং প্রতিদিনের কাজটিই আপনার কাছে হয় উঠবে উপভোগ্য।

কাজ উপভোগ করলে তার প্রভাব দেখা যাবে আপনার আয়ের ক্ষেত্রেও, Image source: encrypted-tbn0.gstatic.com

. ভুল পণ্য বাছাই

আপনাকে এমন পণ্য বাছাই করতে হবে যা আপনার চিহ্নিত শ্রেনীর ভোক্তার কাছে প্রয়োজনীয়। এমন পণ্য বাছাই করুন যা ভোক্তার জীবনকে সহজ করে, কোনো সমস্যার সমাধান করে বা তার কাছে আকর্ষনীয় হয়। আপনার সঠিক পণ্য বাছাই এর উপরই অডিয়েন্সের সাথে আপনার যোগাযোগের সুযোগ নির্ভর করবে এবং এই যোগাযোগ থেকেই আপনি পাবেন সম্ভাব্য ক্রেতা। তাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটে ভালো আয়ের জন্য সঠিক পণ্য বাছাই জরুরী।

. ভরসা করতে পারেন না এমন পণ্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

যে পণ্যটি আপনি নিজে ব্যবহার করেছেন এমন পণ্যেরই পরামর্শ দিন গ্রাহক বা ভোক্তাকে। এক্ষেত্রে আপনি ভোক্তা হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ক্রেতাকে পরামর্শ দিতে পারবেন। ক্রেতার কাছে আপনি এভাবেই বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারেন এবং মার্কেটে আপনার বাছাই করা পণ্যটিও টিকে থাকবে।

. সাহায্য পেতে পারেন এরকম স্থানগুলো অবহেলা করা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে অবশ্যই আপনিই একমাত্র ব্যক্তি নন। এমন আরও অনেকেই আছেন যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকেই বেশ বড় অংকের উপার্জন করছেন। এদের মাঝে অনেকেই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও মার্কেটিং কলাকৌশল নিয়ে কথাও বলেন। যেহেতু আপনি এই ক্ষেত্রে সফল হতে চান, তাই অভিজ্ঞদের থেকে শেখা আপনার জন্য হতে পারে একটি সম্ভাবনা।

. নতুন কিছু যাচাই না করা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটে প্রচারণা চালানোর সময় অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় গুগল এড, সোশ্যাল মিডিয়া এড বা ইমেইলে প্রচারণায় প্রথম যে ভালো আইডিয়াটি মাথায় আসে সেটাই বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু এমন প্রতিযোগিতামূলক কাজে একাধিক ভিন্নধর্মী আইডিয়া বেছে নেওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

এসইও না করালে আপনার সাইট বা ব্লগ সহজে গ্রাহকরা খুজে নাও পেতে পারেন, Image source: data:image/jpeg;base

. এসইও না করানো

সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার উপস্থিতি যত সরব ও শক্তিশালী হবে তত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মতো ক্ষেত্রে আপনার সফল হওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরী হবে। হোক সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণা বা ইমেইল প্রচারণা, এই বিশাল সমুদ্রে আপনার নোঙ্গর গেঁড়ে নাওয়া আবশ্যক। আর তার জন্য করতে হবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও।

. আয়ের কেবল একটি উৎসের প্রতি নজর দেওয়া

আপনি আপনার পছন্দের শাখাটি নিয়ে কাজ করবেন। এতে আপনার পণ্য বাছাইয়ের সুযোগও কমে আসবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি কেবল একটি বা দুটি পণ্য নিয়ে কাজ করবেন। আপনার শাখায় চিহ্নিত ভোক্তা শ্রেনীর উপর নির্ভর করে নতুন নতুন প্রোডাক্টের সন্ধান ও সৃষ্টি করাও আপনার কাজ।

. ট্রাফিকের কেবল একটি উৎসের উপর নির্ভর করা

আমরা সবাই জানি ইন্টারনেট ভিত্তিক কাজ বা ব্যবসায়ে ভালো জনসমাগম বা ট্রাফিক কতটা জরুরী। ভালো ট্রাফিকের সাথেই আপনার ভালো যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরী হয় ও ভালো কামাই হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরী হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভালো ট্রাফিক থাকতে পারে ইন্টারনেট জালের যেকোনোখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। গুণগত ট্রাফিক যোগাড়ে তাই ব্যবহার করুন বিভিন্ন কৌশল, প্রোগ্রাম ও সফটওয়্যার।

. মেইল লিস্ট তৈরী না করা

ইমেইল মার্কেটিংকে ধরা হয়ে থাকে অডিয়েন্সের সাথে যুক্ত হবার সবচেয়ে ব্যক্তিগত মধ্যম হিসেবে। একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের একদম কাজ শুরুর দিন থেকেই উচিৎ ইমেইল লিস্ট তৈরী করা। এই কাজটি শুরু করতে পারেন ওয়েবসাইটে প্রবেশের পূর্ব শর্ত হিসেবে ইমেইল সাবস্ক্রিপশনের অপশন রেখে।

আপনার পণ্যের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটটি, Image source: data:image/jpeg;base

১০. ব্লগ বা ওয়েবসাইট না রাখা

আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ আপনার পণ্যটির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। এটি হচ্ছে সেই স্থায়ী ঠিকানা যেখানে ভোক্তারা বারবার ফিরে আসবে পণ্যের ব্যপারে আরও তথ্য বা বিশদভাবে জানার জন্য। সাধারণত দেখা যায় যেসব পণ্যের জন্য ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকে, সেগুলোর প্রতি গ্রাহকের বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকে।

ফিচার ছবি- wpmanageninja.com

Written by Faria Abdullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে উপার্জনের ১০ কৌশল