৮টি অনলাইন চাকরি: ঘরে বসে অর্থ আয়ের সহজ উপায়

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চাকরির বাজারের নাম হলো ইন্টারনেট। বিশ্বাস করুন বা না করুন, ইন্টারনেটে চাকরি এখন সবচেয়ে সহজলভ্য এবং আরামদায়ক হিসেবে বিবেচিত। এই চাকরি করতে কোনোরূপ ইন্টারভিউয়ের প্রয়োজন হয় না, বসের সাথে কলহ করতে হয় না, এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করতে হয় না।

হ্যাঁ, অনলাইনে চাকরি করতে আপনাকে ঘরের বাইরেই যেতে হবে না, নির্দিষ্ট রুটিনের মাঝেও আটকে যেতে হবে না। কেবল একটি কম্পিউটার আর তাতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে আপনার ঘরটিই হয়ে উঠবে আপনার অফিস কক্ষ!

তাহলে আর দেরী কেন? চলুন জেনে নেই ১০টি সহজ অনলাইন চাকরির কথা, যেগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসেই অর্থ আয় করতে পারবেন।

১. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

যদি আপনার একটি নিজস্ব ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকে এবং সেটি মোটামুটি জনপ্রিয় হয়, তাহলেই শুরু করতে পারেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। ব্যাপারটা অত্যন্ত সহজ। বড় বড় পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করবেন। বিজ্ঞাপনের সাথে থাকবে সেই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত পণ্যের অ্যাফিলিয়েট লিংক

Image Source: cloudways.com

এই লিংকে প্রবেশ করে পাঠক যদি পণ্য ক্রয় করেন, তাহলে আপনি পেয়ে যাবেন সেই পণ্যের মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অনুপাতের কমিশন। মনে রাখা প্রয়োজন, অধিক পণ্য বিক্রয়ের জন্য আপনার প্রয়োজন অধিক পাঠক। তাই, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুর পূর্বে নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটটিতে আকর্ষণীয় কন্টেন্ট সরবরাহ করে পাঠক বৃদ্ধি করুন।

২. ব্লগ বা ওয়েবসাইট

ব্লগ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আয় করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংই করতে হবে, এমন নয়। আপনি চাইলে পণ্য বিক্রয় ছাড়াও আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে মানিটাইজেশন করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হবে ব্লগটিকে গুগল অ্যাডসেন্সের আওতায় আনা। গুগল অ্যাডসেন্স প্রয়োগ করলে পাঠকের প্রতি ক্লিকের জন্য অর্থ আয় হবে আপনার।

ব্লগিং; Image Source: eyeswift.com

অবশ্য গুগল অ্যাডসেন্সের আয় খুব বেশি নয়। আয়ের প্রধান উৎস হলো স্পন্সরড কন্টেন্ট এবং বিজ্ঞাপন। আপনি বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য আপনার ব্লগের নির্দিষ্ট পরিমাণ স্পেস ভাড়া দিতে পারেন। এছাড়াও, আপনার ব্লগটি যদি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়, তাহলে অনেক কোম্পানিই তাদের পণ্যের জন্য আকর্ষণীয় মূল্যে স্পন্সরড কন্টেন্ট প্রকাশ করতে ইচ্ছুক হবে। এটি হতে পারে আয়ের বড় উৎস।

৩. অনলাইন সার্ভে

অনলাইন জগতে সবচেয়ে সহজ চাকরিগুলোর মাঝে একটি হলো এই সার্ভে। এখানে আপনার কাজ হবে বিভিন্ন সার্ভেতে প্রশ্নের উত্তর দেয়া যার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করা হবে। বড় বড় পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা, নেতিবাচক দিক, জনপ্রিয়তা ইত্যাদি যাচাই করতে নানা ধরণের সার্ভে বা জরিপ চালায়।

কন্টেন্ট রাইটিং; Image Source: problogger.com

এসব জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে আউটসোর্সারদের দিয়ে জরিপ পূরণ করে নেয়। আপনার কাজ হলো সেসব জরিপের উত্তর দেয়া। সোয়াগবাকস, ইনবক্সডলার, মাইসার্ভে, সার্ভে আউটপোস্ট, ভিন্ডেল রিসার্চের মতো ওয়েবসাইটগুলো বিশ্বস্ততার সাথে অনলাইন সার্ভের জন্য অর্থ প্রদান করে আসছে।

৪. কন্টেন্ট রাইটিং

আপনার কি নিজস্ব ব্লগ বা ওয়েবসাইট নেই? কোনো সমস্যা নেই। লেখালেখির হাত ভালো হলে ওয়েবসাইটের মালিকই আপনাকে খুঁজবে! হ্যাঁ, অনলাইন চাকরির জগতে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় এবং সহজলভ্য চাকরি হলো কন্টেন্ট রাইটিং। লেখালেখির অভ্যাস থাকলে যে কেউ কন্টেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে আয় করতে পারে।

শুরুতে আয় কিছুটা কম হতে পারে। তবে লেখালেখির দক্ষতা যত বাড়বে, অভিজ্ঞতা যত বেশি সমৃদ্ধ হবে, কন্টেন্টের বাজারে আপনার চাহিদ তত বৃদ্ধি পাবে, বৃদ্ধি পাবে আপনার আয়ও। একজন দক্ষ কন্টেন্ট লেখক প্রতিদিন ৫-২০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে সক্ষম। তবে, অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য প্লাটফর্মে কাজ করতে হবে। ফাইভার, ইল্যান্স, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদি ওয়েবসাইটে আপনি অনলাইনে লেখালেখির চাকরি খুঁজে পাবেন।

৫. অনলাইন টিউটর

টিউশন করতে আর ঘরে ঘরে যেতে হবে না। এখন ঘরে বসেই করতে পারবেন টিউশন। আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী, সে বিষয়েই শুরু করতে পারেন অনলাইন টিউশন। ফেসবুকে লাইভ করার পাশাপাশি স্কাইপের মতো মাধ্যম ব্যবহার করেও আগ্রহীদের ক্লাস নিতে পারেন।

৬. ইউটিউবিং

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফরম ইউটিউব চাকরির বাজারে এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছে। তথ্যমূলক, শিক্ষামূলক, মজাদার আর আকর্ষণীয় ভিডিও কন্টেন্ট প্রস্তুত করে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রদর্শন করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। এছাড়া, বিভিন্ন বিষয়ের টিউটোরিয়াল ভিডিও দিয়েও ইউটিউব চ্যানেল শুরু করতে পারেন। যথেষ্ট পরিমান সাবস্ক্রাইবার হয়ে গেলেই গুগল অ্যাডসেন্স প্রয়োগ করে এবং অন্যান্য পণ্যের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ আয় করতে পারবেন।

ইউটিউব এখন আয়ের জনপ্রিয় মাধ্যম; Image Source: problogger.com

৭. ট্রান্সক্রিপশন

ট্রান্সক্রিপশন হলো এক ধরনের ডাটা এন্ট্রির চাকরি। এ কাজে আপনাকে বিভিন্ন অডিও ফাইল শুনে তার কথাগুলো লিখে দিতে হবে। আকর্ষণীয় এ চাকরির জন্য দ্রুত টাইপিং আর ভালো শ্রবণ দক্ষতা ছাড়া তেমন কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।

প্রতি অডিও ঘন্টা ট্রান্সক্রিপশনের জন্য আপনার আয় হবে ৪০-৫০ ডলার পর্যন্ত। অডিও ঘন্টা বলতে, আপনাকে যে অডিও ফাইলটি দেয়া হবে তার দৈর্ঘ্যকে বোঝায়। এক্ষেত্রে আপনার টাইপিংয়ের গতি যত বৃদ্ধি পাবে, আপনার আয়ও তত বাড়বে।

৮. সোশ্যাল মিডিয়া কিউরেটর

অনলাইনের আরেকটি লোভনীয় চাকরি হলো সোশ্যাল মিডিয়া কিউরেটিং এর চাকরি। বিশেষ করে যারা সর্বক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া জগতে থাকেন বা থাকতে চান, তাদের জন্য এ চাকরি অত্যন্ত উপযোগী।

একজন সোশ্যাল মিডিয়া কিউরেটরের মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপ বা পেজ দেখাশোনা করতে হবে, সেখানে ভিজিটরদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে হবে, প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক বা নেতিবাচক হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, প্রয়োজনে পাঠকের প্রতিক্রিয়ার উত্তর দিতে হয়।

ফিচার ছবি: xdigitalnews.com

Written by MS Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

তৈরি করুন স্মার্টফোন অ্যাপ আর আয় করুন গুগল প্লেস্টোর থেকে

ওয়ার্ডপ্রেস থেকে যেভাবে অর্থ আয় করবেন