৭টি পথ অনুসরণ করে হয় উঠুন একজন সফল ট্রাভেল ব্লগার।

ভ্রমণ পিপাসু লেখকদের জন্য অপার সম্ভাবনার ও প্রশান্তির এক ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ট্রাভেল ব্লগিং। ট্রাভেল ব্লগিং এদেশে এখনো একটু নতুন ধারণা। ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই ভ্রমণ পছন্দ করলেও জাতিগতভাবে অতটা না হুয়ার জন্যই হয়ত। ট্রাভেল ব্লগাররা নিজেদের ভ্রমণের অসাধারণ, তাক লাগিয়ে দেওয়া সব অভিজ্ঞতার উপাদেয় বর্ণনা দিয়ে ভ্রমণপ্রেমী পাঠকদের মনকে যেন নিয়ে যান সেসব স্থানে। চাঙ্গা করে তোলেন ভ্রমণের ক্ষুধা।

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্লগিং করেই হয় উঠা যায় সফল, ছবিসূত্রঃ data:image/jpeg;base

ট্রাভেল ব্লগিংয়ের ধারণা খুব পুরনো না হলেও এরই মধ্যে বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয় উঠেছে এটি। অনেকের কাছেই এটা তাদের স্বপ্নের কাজ। সাথে আছে স্পন্সরশিপে ভ্রমণের ও টাকা আয়ের সুযোগ। ট্রাভেল ব্লগিং বলতে কেবল ঘুরে বেড়ানো আর তা নিয়ে লিখে সবাইকে জানানোই একজন ট্রাভেল ব্লগারকে সফল হতে হলে সবসময়  তথ্যবহুল কন্টেন্ট বা লেখার শৈল্পিক মানের বিষয়টি  মাথায় রাখতে হয়। আর জীবিকার পথ যদি হয় ট্রাভেল ব্লগিং, তবে তাকে গুরুত্বও দিতে হয় সেভাবেই। ৭টি পথ অনুসরণ করে ট্রাভেল ব্লগার হিসেবে অনন্য ও সফল হয় উঠতে পারেন যে কেউ।

১. বেশি বেশি বই পড়ুন

ভালো লেখার জন্য যে বেশি বেশি বই পড়ার বিকল্প নেই তা সর্ব্জনবিদিত। কিন্তু একজন ট্রাভেল ব্লগার কি পড়বেন? ভ্রমণ নিয়ে লিখছি বলেই যে কেবল ভ্রমণের বইই পড়বো তা কিন্তু নয়। যেহেতু ট্রাভেল ব্লগিং আপনার আয়েরও পথ তাই মার্কেটিং, ব্যবস্থাপনা, ইতিহাস, সংস্কৃতি বিষয়েও নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করুন। যত বেশি আপনি জানবেন ততই মানসম্পন্ন, জনপ্রিয় কন্টেন্ট তৈরীতে আপনি সিদ্ধহস্ত হবেন।

২. ভিন্নভাবে ভাবুন

সবসময়ে চেষ্টা করুন গতানুগতিক স্রোতের বাইরে গিয়ে ভাবার, ছবিসূত্রঃ encrypted-tbn0.gstatic.com

যাই আপনি লিখুন না কেন তা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করুন। সবাই যদি অভিজ্ঞতা লিখে তবে আপনি ভিডিও জুড়ে দিন, চমৎকার সব ছবি দিয়ে তাক লাগিয়ে দিন। পথের কেবল বর্ণনা না দিয়ে সরাসরি ম্যাপে দেখান। যোগাযোগের জন্য সব প্রয়োজনীয় তথ্য, নাম্বারও সংযোজন করুন যেন পাঠকের কাছে ওই স্থানে যাওয়ার সর্বোত্তম গাইড আপনার ব্লগই হয় উঠে। আপনার ভ্রমণের সময় থেকেই ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ দিয়ে ট্রেইলার দিন যেন পাঠক উদ্গ্রীব হয়ে বারবার ফিরে আসে আপনার অভিজ্ঞতা জানতে। গতানুগতিকতার ছক থেকে বেরিয়ে ভিন্নধর্মী উপস্থাপন একজন সফল ব্লগারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৩. ব্লগিং এ করুন বিনিয়োগ

ব্লগিং এ আপনি যতটা বিনিয়োগ করবেন আপনার কাজ ততই মানসম্মত ও ভালো হবে। যদি আপনি মূলত অভিজ্ঞতা লেখার কাজ করে থাকেন তাহলে ভিডিও এডিটিং, ফটোগ্রাফি, এসইও অডিটিং, ওয়েব ডেভেলপিং, ডিজাইন ইত্যাদির জন্য কাউকে ভাড়া করুন। এভাবে কাজের সময়ও বাঁচবে আপনার কাজও গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত হবে।

৪. পণ্যও তৈরী করুন

ট্রাভেল ব্লগিংকে যারা আয়ের উৎস হিসেবেও বিবেচনা করেন এই উপায়টি তাদের অবলম্বন করা উচিত। সব ব্যবসায়ই কিছু  না কিছু বিক্রি করা হয়, আপনিও আপনার ট্রাভেল ব্লগিংকে সেভাবেই দেখুন। হতে পারে ভ্রমণের উপর বিশেষ বই, কোর্স, আপনার ভ্রমণ সম্বলিত কোন ছবি আঁকা টিশার্ট, জ্যাকেট,ব্যাগপ্যাক ইত্যাদি। এভাবে আপনাকে স্পন্সরদের টাকার উপরও নির্ভর করতে হবেনা, স্বাধীনভাবেই নিজের ব্লগটি চালাতে পারবেন।

নিজের পণ্য বিক্রি করে, স্বাধীনভাবেই চালাতে পারেন ব্লগ, ছবিসূত্রঃ encrypted-tbn0.gstatic.com

৫. ব্র্যান্ড বা স্পন্সরশিপের ট্রিপে কম যান

ট্রাভেল ব্লগাররা ব্লগ লিখবেন সাধারন শ্রেণীর মানুষের জন্য। যখন আপনি কোনো ব্র্যান্ডের প্রচারে বা স্পন্সরশিপে লাখ টাকার কোনো ভ্রমণে যাচ্ছেন, তখন তার অভিজ্ঞতার সাথে খুব কম লোকই একাত্মবোধ করবে। হ্যাঁ, হয়ত  চকমকে ছবি আর তকতকে হোটেল রুম দেখে পাঠক অভিভূত হবেন। কিন্তু কখনই এটা ভাববে না যে এখানে, এভাবে আমিও যেতে পারি। তাই চেষ্টা করতে হবে সাশ্রয়ী ভ্রমণের যেন পাঠক বার বার আপনার কাছেই আসে ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আদ্যোপান্ত জানতে।

৬. ভ্রমণের বাইরেও সম্পর্ক স্থাপন করুন

অন্যান্য ট্রাভেল ব্লগারদের সাথে সম্পর্ক  আপনাকে ট্রাভেল ব্লগিং এর রাজ্যে হয়ত আরো পরিচিত মুখ করে তুলতে পারে। কিন্তু ব্লগারদের বাইরেও অন্যান্য ক্ষেত্রের প্রাভাববিস্তারকারীদের সাথে ভালো সম্পর্ক আপনার উপোযোগীতা আরও বাড়াবে। ফটোগ্রাফার, আঁকিয়ে, ভিডিওগ্রাফার সবার সাথেই সম্পর্ককে আপনি আপনার ব্লগিংকে সমৃদ্ধ করতে কাজে লাগাতে পারেন একটু বাক্সের বাইরে চিন্তা করলেই।

৭. সবসময় নিজের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন

ট্রাভেল ব্লগ যেন ব্যক্তিগত ডায়েরী না হয় যায় লক্ষ রাখতে হবে,ছবিসূত্রঃ data:image/jpeg;base

ট্রাভেল ব্লগিং এ সবসময় “আমি” শব্দের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করুন। অনেকেই ট্রাভেল ব্লগিং করতে গিয়ে অতিরঞ্জিত করে নিজের ব্যক্তিগত ডায়েরিই লিখেন যেন। মনে রাখবেন, আপনার লেখার উদ্দেশ্য ভ্রমন ও স্থান সম্পর্কে বলা। আপনি কি খেলেন, কি পরলেন, কি কিনলেন তা নয়। হ্যাঁ নিজের অনুভূতি, উপদেশ অবশ্যই উল্লেখ করবেন। কিন্তু অবশ্যই বড় পরিসরে ভ্রমণ সম্পর্কে বলাই যেন আপনার লেখার কেন্দ্রবিন্দু হয় তা লক্ষ রাখবেন।

ফিচার ছবি- gapyear.com

Written by Faria Abdullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনলাইন ডাটা এন্ট্রি: ঘরে বসেই আয়

৮টি টিপস অনুসরণ করে সফলভাবে বিক্রি করুন অনলাইনে