যে ৭টি বিষয় ফ্রিল্যান্সারদের না জানলেই নয়

ফ্রিল্যান্সিং বর্তমানে একটি অপার সম্ভাবনাময় সেক্টর। এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে যারা জীবনে একবার হলেও নয়টা পাঁচটার কর্পোরেট দাসত্বে আবদ্ধ না হয়ে নিজের ইচ্ছার মালিক হতে না চেয়েছেন। এমন স্বাধীনচেতা, কর্মঠ ও উৎসাহী মানুষদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং যেন বর হয় এসেছে।

স্বাধীনভাবে যারা কাজ করতে চান তাদের জন্যই ফ্রিল্যান্সিং, Image source: encrypted-tbn0.gstatic.com

তেমন কোনো পুঁজি ছাড়া কিছু কাজের দক্ষতা অর্জন করে আপনিও করতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং। যদিও ফ্রিল্যান্সিং একটি ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্র কিন্তু এখানে কাজ করা একেবারে ছেলের হাতের মোয়া নয়। আপনি যদি একজন উদীয়মান ফ্রিল্যান্সার হয় থাকেন তাহলে এই জগতের অনেক খুঁটিনাটিই আপনার অজানা। আবার অনেক অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারও অনেক সময় কিছু বিষয়ে খেয়াল করতে ভুলে যান। ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত এমন ৭টি তথ্য জেনে নিন, যেগুলো না জানলেই নয়।

১. ফ্রিল্যান্সিংকে শুধু সাময়িক প্রজেক্ট ভাবা ঠিক নয়

একটা সময় ছিলো যখন ফ্রিল্যান্সিং মূলত ছিল ছোট অনলাইন বা আইটি বেজড ব্যবসায়ীদের জন্য করে দেওয়া সাময়িক প্রজেক্ট। বর্তমান সময়ে এসে এ চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। এখন বড় বড় কোম্পানিগুলোর প্রধান ব্যাবসায়িক কাজের মধ্যেই ফ্রিল্যান্সারদের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়। এছাড়া অনেক একক ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীও থাকেন যারা ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে ব্যবসায়ের সব সেট আপ করিয়ে নেন, পরে ব্যবসাটি নিজে চালান। এখন বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর কিছু কিছু ফ্রিল্যান্সিং প্রজেক্ট ৬ মাস বা তার বেশি সময়ের জন্যই প্ল্যান করা থাকে। তাই যেসব ফ্রিল্যান্সার একটু স্থায়ী কাজের স্বাদ পেতে চান, তাদের জন্য এটি সুসংবাদ।

২. জাতীয় নয় বরং আন্তর্জাতিকভাবে ভাবুন

ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি ক্ষেত্র যা আপনাকে ঘরে বসেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের সুযোগ দেয়। তাই জাতীয় পরিসরে কাজের সুযোগ কম থাকলেও আপনি আন্তর্জাতিক কোম্পানী বা ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করে সহজেই করতে পারবেন অর্থ উপার্জন। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখবে আপনার কাজের প্রতিযোগিতাটাও আন্তর্জাতিক। তাই নিজের কাজের মান, দক্ষতা  ও ধরণে বৈচিত্র ও বিশেষত্ব আনতে হবে আন্তর্জাতিক পরিসরকে মাথায় রেখে। নাহলে ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর পরিসর আন্তর্জাতিক তাই কাজের মানও হওয়া চাই তেমন, Image source: data:image/jpeg;base

৩. প্রত্যাখানও সাফল্যেরই একটি ধাপ

আপনার বিড বা প্রজেক্ট প্ল্যান প্রত্যাখাত হওয়া ফ্রিল্যান্সিংয়েরই একটি অংশ। আপনি যত এতে অভ্যস্ত হতে শিখবেন ততই ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য সহজ হবে। সাধারণত ক্লায়েন্টরা ফ্রিল্যান্সারের সাথে কাজের সম্পর্ক, প্রজেক্ট প্ল্যান ও বাজেটের ভিত্তিতে কোনো ফ্রিল্যান্সারকে প্রত্যাখান করে থাকেন।

শুরুতে আপনার প্রত্যাখাত হবার সম্ভাবনা থাকবে বেশি। যত আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে সময় দিবেন, তত আপনার কাজের দক্ষতা বাড়বে, অভিজ্ঞতাও আর সেই সাথে কাজে প্রত্যাখান পাওয়ার সংখ্যাও কমে আসবে।

৪. অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের সাথে বন্ধুত্ব করুন

একজন ফ্রিল্যান্সারের তার সমসাময়িক অন্য ফ্রিল্যান্সারদের সাথে যুক্ত থাকা উচিৎ। কেননা, খারাপ সময়ে তারাই আপনার অনুপ্রেরণা হতে পারেন, যেকোনো কাজের সমস্যায় আলোচনা করে পেতে পারেন সমাধান এমনকি ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটিই আপনাকে সাহায্য করতে পারে নতুন নতুন কাজ পেতে। বড় শহরগুলোতে সবসময়ই স্থানীয় বা জাতীয় ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি থাকে। কিন্তু কোনোটাই যদি আপনার মনমত না হয়, তবে নিজেই বানাতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি। কারণ, ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি কখনই একা নন।

যোগাযোগ রাখুন অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের সাথেও, Image source: encrypted-tbn0.gstatic.com

৫. কখনই আপনার কাজের লিস্ট খালি রাখবেন না

ফ্রিল্যান্সিং হলো সংখ্যার খেলা। আপনি কতগুলো অফার বিড করেছেন, পরিচিতি পত্র মেইল করেছেন, কতগুলো প্রজেক্ট কল বা পিচ করেছেন, তার উপরই আপনার কাজের সাফল্য নির্ভর করে। যখন অনেক কাজ পাচ্ছেন, তখনও এই কাজগুলো বন্ধ করা যাবেনা। শিডিউলে সবসময় পরবর্তী কাজের জন্য পিচ, কল প্ল্যান করতে থাকতে হবে, প্রজেক্ট বিড করতে হবে। নাহলে এর পর পরই বেকার বসে থাকতে হবে।

৬. আপনার অনন্য দক্ষতারই মার্কেটিং করুন

সাধারণত কোনো কোম্পানী বা ক্লায়েন্ট যখন লোক খুঁজে, তখন তা কারও ফাঁকা স্থান পূরণ বা যে কাজটি কেউ করতে পারছেন না তার জন্যই খুঁজে। তাই যখন কোনো কোম্পানী তাদের নোটিশে কোনো বিশেষ দক্ষতার সমন্বয় খোঁজ করে, তা আপনার থাকলে অবশ্যই তুলে ধরুন। সেইসাথে আপনার সবচেয়ে অনন্য দক্ষতার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করতে ভুলবেন না। আপনার ক্লায়েন্টকে অবশ্যই অনুভব করাতে হবে আপনি তাদের কাজের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত।

৭. পোর্টফোলিও রাখতে হবে অতি অবশ্যই

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাবেন ফ্রিতে পোর্টফোলিও টেমপ্লেট, Image source: data:image/jpeg;base

অনেক ফ্রিল্যান্সারই টাম্বলার, কন্টেন্টলি বা এবাউট মি এর মত সাইটে নিজের পূর্ব কাজের নমুনা সম্বলিত পোর্টফোলিও রাখেন। যেখান থেকে ক্লায়েন্ট সহজেই দেখে তার কাজের ধরণ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পায় ও যোগাযোগ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। এমন পোর্টফোলিও যদি আপনার পক্ষে এখনই তৈরী করা সম্ভব না হয়, তবে ক্লায়েন্ট চাওয়া মাত্রই দেখাতে পারবেন এমন কাজের নমুনা রাখুন। তা হতে পারে ভিডিও ক্লিপ, ছবি, ডকুমেন্ট ফাইল, আগের কাজের সম্পূর্ণ ফাইল, ইত্যাদি। অবশ্যই আপনার সবচেয়ে ভালো কাজগুলো তুলে ধরবেন পোর্টফোলিওতে যেন দেখামাত্রই ক্লায়েন্ট আপনার সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে আশ্বস্ত হয়।

ফিচার ছবি- thedailystar.net

Written by Faria Abdullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যে ৫টি ভুল ফ্রিল্যান্সিংয়ে কখনোই করবেন না

গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে উপার্জনের ১০ কৌশল