ভিডিও তৈরি করে আয় করা সহজ ৫টি উপায়

প্রথাগত চাকরির পেছনে ছোটাছুটি না করে অনলাইনে আয়ের শত শত উৎস থেকে একটি বেছে নিতেই বেশি পছন্দ করে আজকের প্রজন্মের তরুণরা। কোনো দক্ষতা যদি থেকে থাকে, তাহলে অনলাইনে কাজের অভাব নেই। কোনো কিছু প্রকৃত অর্থেই আয়ত্ত করতে পারলে সেটির দ্বারা অর্থ উপার্জন তো করা যায়ই, পূর্ণকালীন কাজ করে তাতে ক্যারিয়ার গড়া যায়। তেমনই একটি কাজ ভিডিওগ্রাফি।

যদি আপনি ক্যামেরা চালনা করতে পারেন, আপনার সিনেমেটোগ্রাফি সম্বন্ধে জ্ঞান থাকে এবং ভিডিও এডিটিংয়ে দক্ষতা থাকে, তাহলে আপনার কাজের অভাব নেই। তাছাড়া, আজকাল স্মার্টফোনেই অত্যন্ত উন্নতমানের ক্যামেরার সংযোজনে ভিডিও করার কাজ হয়েছে পূর্বের তুলনায় আরো সহজ।

ভিডিওগ্রাফির দক্ষতা থাকলে তৈরি করুন ট্রেন্ডি ভিডিও; Image Source: trainingindustry.com

ফোকাস ঠিক রেখে আপনি যদি চমৎকার সব ফুটেজ ধারণ করতে পারেন, কিংবা নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে ভালো স্ক্রিপ্ট লিখে তার উপর কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন, কিংবা ছোট ছোট শিক্ষামূলক এবং তথ্যমূলক ভিডিও তৈরি করতে পারেন, অনলাইন জগতে আপনার জন্য সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার অপেক্ষা করছে। নিজের ভিডিওগুলো নানাভাবে ব্যহার করে ভিডিওগ্রাফিতে গড়ে তুলতে পারেন ক্যারিয়ান।

আপনার তৈরিকৃত ভিডিওগুলো যেসব ক্ষেত্রে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করতে পারবেন, সেরকম পাঁচটি উপায় আজ বর্ণনা করবো।

ইউটিউবে আপলোড

ভিডিও তৈরি করে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রক্রিয়াটি হলো ইউটিউবে আপলোড করা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে প্রসারিত ভিডিও আপলোডিং সাইট ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে তা থেকে আয় করা এখনো সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি। তবে এটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ। ভাগ্যক্রমে যদি আপনার কোনো ভিডিও ভাইরাল হয়ে না যায়, তাহলে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে অর্থ আয় করা একটি লম্বা প্রক্রিয়া।

ইউটিউবে আপলোড করা এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি; Image Source: muvi.com

প্রথমে আপনার একটি চ্যানেল খুলতে হবে এবং তাতে নিয়মিত মানসম্মত ভিডিও আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চ্যানেল এবং চ্যানেলের ভিডিওগুল শেয়ার করতে হবে, দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধীরে ধীরে আপনার সাবসক্রাইবার বাড়বে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ সাবস্ক্রাইবারে পৌঁছুলে আপনার চ্যানেলে গুগল অ্যাডসেন্স যোগ করার অনুমতি পাবেন। তখন থেকেই মূলত শুরু হবে আয়। এরপর জনপ্রিয়তার সাথে সাথে বাড়বে বিজ্ঞাপন, বাড়বে আয়।

ফ্রিল্যান্সিং

ভিডিও এডিটিংয়ে যদি দক্ষ হোন, তাহলে নিজের ইউটিউব চ্যানেল চালানোর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংও করতে পারেন। এর সুবিধা হলো এই যে আপনাকে একেবারে খালি হাতে বসে থাকতে হচ্ছে না। যেহেতু ইউটিউব চ্যানেল থেকে অর্থ আয় করাটা সময়ের ব্যাপার, তাই এ সময় ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করাটা মন্দ নয়।

অনেকেই আছেন যাদের নানান কাজে ভিডিও প্রয়োজন হয়। এডিটিং না জানায়ই হোক কিংবা কাজের ব্যবস্ততার জন্যই হোক, তারা এসব কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করিয়ে নেন। কাজের মান ভালো হলে অবশ্যই পেমেন্টও ভালো হয়। তাই, প্রাথমিকভাবে যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি অর্থ আয় শুরু করেনি, তখন ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্থ আয় করতে পারেন। ক্লিপচ্যাম্প, উইভিডিও, অ্যাডোবি স্পার্ক, ইত্যাদি ওয়েবসাইটে আপনি ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ পাবেন।

ভিডিও লেসন/টিউটোরিয়াল তৈরি করুন

বর্তমানে ইউটিউবে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় টিউটোরিয়াল ভিডিও’র বেশ কদর রয়েছে। যেকোনো বিষয় শিখবার জন্য মানুষ এখন ইউটিউবে টিউটোরিয়ালের খোঁজ করে। তবে এজন্য নিজেকে কোনো একটি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে। উদাহরণস্বরূপ- আপনি যদি ভিডিও গেম খেলায় দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে নতুন নতুন গেম বাজারে আসলে আপনি সেগুলোর উপর টিউটোরিয়াল তৈরি করতে পারেন। বিশেষ করে গেমের অনেক মিশন/স্টেজ থাকে যেগুলো কিছুটা জটিল হয়। এসব মিশন/স্টেজের টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করতে পারেন আপনি।

টিউটোরিয়াল ভিডিও বানান; Image Source: learn.corel.com

এছাড়াও আজকাল অনলাইনে শিক্ষামূলক ভিডিও’র কদরও বেশ বেড়েছে। গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান, যে বিষয়ে আপনি দক্ষ, সে বিষয়েই ভিডিও লেসন তৈরি করুন। কিংবা বিভিন্ন সফটওয়্যার যেমন- ফটোশপ, ইলাসট্রেট, প্রিমিয়ার ফ্রো, অডিশন, ইত্যাদির জন্যও ভিডিও লেসন তৈরি করতে পারেন। এসব টিউটোরিয়াল বা ভিডিও লেসন নিজের চ্যানেলে আপলোড কিংবা সরাসরি ক্রেতাদের নিকট বিক্রয়ও করতে পারেন।

স্টক ফুটেজ বিক্রয়

আপনি যদি দক্ষ ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন, আপনার শ্যুটিং এবং সিনেমেটোগ্রাফি সেন্স যদি উন্নত হয়, তাহলে দ্রুত এবং অধিক পরিমাণ অর্থ আয়ের সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো স্টক ফুটেজ সংগ্রহ করা এবং বিক্রয় করা। বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপন নির্মাতা কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলে স্টক ফুটেজের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজন হয় চমৎকার সিনেম্যাটিক শট।

নিজের সিনেমেটোগ্রাফি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে স্টক ফুটেজ সংগ্রহ করুন; Image Source: shutterstock.com

আপনার দক্ষতা যদি আদতে পেশাদার ক্যামেরাম্যানদের মতো হয়, তাহলে এ কাজটি আপনার জন্য। বিভিন্ন লোকেশনে গিয়ে সেসব স্থানের মানসম্মত শট নিন এবং কালার গ্রেডিং করে নিজের প্রোফাইলে জমা করুন। আপনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলেও এসব ভিডিও আপলোড করে রাখতে পারেন এবং ক্রেতাদের আবেদন অনুযায়ী বিক্রয় করতে পারেন। শুধু বিজ্ঞাপন নির্মাতা আর টিভি চ্যানেলই নয়, অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্লগারও আপনার ভিডিওর ক্রেতা হবে যদি সেগুলো মানসম্মত হয়।

ভাইরাল ভিডিও

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কাজ করা অতটা সহজ নয়। প্রথমত, আপনার ভিডিওটিকে ভাইরাল করতে হলে আপনাকে অনলান জগতের চলতি ট্রেন্ড সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রাখতে হবে, আপনাকে জানতে হবে কোন ধরনের ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়, আপনাকে সঠিক সুযোগ এবং সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে যখন একটি ট্রেন্ডিং ইস্যুতে ভিডিও তৈরি করলে তা ভাইরাল হয়ে যাবে।

আজকাল অবশ্য ছোট ছোট কমেডি ভিডিও কিংবা কোনো বিষয়ে ট্রল ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হচ্ছে। একবার আপনার ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেলে সেটির মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামারদের রেফারেন্স পণ্য বিক্রয় করতে পারেন এবং কমিশন আয় করতে পারেন। ভিডিও যত ভাইরাল হবে, পণ্য তত বেশি ব্রিক্রি হয়ে, আপনার আয়ও বাড়বে সমানুপাতে। তাই ভিডিওর উপরই হতে হবে প্রধান ফোকাস।

ফিচার ছবি- apowersoft.com

Written by MS Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঘরে বসে গান শুনুন আর রিভিউ লিখে আয় করুন!

ক্রিপ্টোকারেন্সি: অনলাইনে আয় করার সহজ প্রক্রিয়া