যে ৫টি ভুল ফ্রিল্যান্সিংয়ে কখনোই করবেন না

নয়টা পাঁচটার চাকুরে না হয় যারা স্বাধীনভাবে নিজের ভালো লাগার কাজটি করতে চান তারাই বেছে নেন ফ্রিল্যান্সিং পেশা। খুব দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া এই পেশায় চ্যালেঞ্জ এবং সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগও রয়েছে প্রচুর। কিছুদিন ফ্রিল্যান্সিং করে থাকলে অবশ্যই আপনি কিছু ভুল, ত্রুটি, বাধার সম্মুখীন এরই মধ্যে হয়েছেন। আর যদি নতুন ফ্রিল্যান্সার হয় থাকেন, তা হলে এই ভুলগুলো এখনও আপনার সামনে ধরা দেয়নি তবে। শিগগিরই দিবে তা হলফ করে বলা যায়। কেন?

৯-৫ টার চাকরি না করে অনেকেই ঝুঁকছেন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের প্রতি, Image source: encrypted-tbn0.gstatic.com

কারণ যত প্রযুক্তি, টিউটোরিয়াল, ওয়েবসাইট নির্ভর কাজই আমরা করিনা কেন, একটা জিনিস কখনো এড়ানো যায়না। আর সেটা হলো স্বভাবজাত মানব ত্রুটি। কিছু ভুল হয়ত খুব ছোট হয়, ছোটখাটো বানান ভুলের মতো। আবার কিছু ভুল এত বড় হয় যে তার জন্য বড় অঙ্কের মূল্যই পরিশোধ করতে হয়। বিশেষ করে যখন ফ্রিল্যান্সিংকে আপনি বেছে নিচ্ছেন অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে। অনেক বড় বড় ফ্রিল্যান্সারও জীবনে ভুল করেছেন প্রচুর, আর সেসব থেকেই নিয়েছেন শিক্ষা। এমন ৫ টি ভুলের কথা জেনে নিই চলুন, যেগুলো চাইলেই এড়িয়ে গিয়ে গড়তে পারেন সফল ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।

১. নিজের কাজের মূল্য জানুন ও জানান

উঠতি ফ্রিল্যান্সাররা প্রায়ই যে সমস্যাটির সম্মুখীন হন তা হলো নিজের কাজের জন্য কত চাইবেন। খুব কম সময়ই ক্লায়েন্টের অফার করা মূল্য আপনার মনমতো হবে বা আপনার পরিশ্রম ও মেধার সাথে মানানসই হবে। তাহলে কি করবেন?

অনেক সময়ই নতুন ফ্রিল্যান্সাররা শুরুর দিকে কাজের অভাবে নামমাত্র মূল্যে কাজ করে দিতে রাজি হয়ে যান। কিন্তু অনেকসময় দেখা যায় ওই মূল্য হাতে পেতেই এরচেয়ে বেশি খরচ করতে হয়। আবার অনেকে কম মূল্যে কাজ করতে করতে ওই পরিমাণ অংকের টাকার কাজই পেতে থাকেন। নিজের কাজের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ আর হয়না।

ক্লায়েন্ট কখনোই জানবেন না বা বুঝবেন না যে কাজটা করতে আপনার কত পরিশ্রম, মেধা, সময়, অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ক্লায়েন্ট শুধু এই কাজের জন্য তার নির্ধারিত বাজেটটি সম্পর্কেই সচেতন থাকবেন। তাই আপনার নিজের কাজের সঠিক মূল্যায়ন যেন হয় তা আপনাকেই দেখতে হবে।

নিজের কাজের সঠিক মূল্যায়নেই চুক্তিবদ্ধ হন প্রজেক্টে,Image source: data:image/jpeg;base

কাজের সঠিক মূল্য ধরতে আপনার কাজের পুর্ব অভিজ্ঞতা, কাজ শেখার জন্য করা কোর্স, কাজের মান, ডেডলাইনে কাজ শেষ করার সামর্থ্য, এসব মাথায় রাখতে হবে। সেই সাথে কাজের জন্য যে মূল্য ধরবেন তাতে যোগ হবে ইলেকট্রিসিটি বা ইন্টারনেট বিল, কোনো অতিরিক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করলে তার মূল্য, ওয়েবসাইটে একাউন্ট রাখার পেমেন্ট ইত্যাদি।

২. বুঝুন কখন চুপ থাকতে হবে

উদীয়মান ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আরেকটি গভীর জ্ঞান হলো সময়মতো চুপ থাকতে শেখা বা কথা কম বলা। কার সাথে চুপ থাকবেন? আপনার সম্ভাবনাময় ক্লায়েন্টের সাথে। কেন?

এই বিষয়টি একটু দ্বান্দ্বিক। ক্লায়েন্ট চাইবেই আপনি তাকে তার বাজেটে আকাশের চাঁদ এনে হাজির করে দিন। কিন্তু এটা আপনার ওপর যে আপনি ক্লায়েন্টকে সেই চাঁদ এনে দিতে পারার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিবেন নাকি নিজের সীমাবদ্ধতা জানাবেন। যে কাজে আপনার পারদর্শীতা নেই বরং সীমাবদ্ধতা আছে, তা আগেই ক্লায়েন্টকে জানিয়ে দেওয়া ভালো, মিথ্যা কাজের দক্ষতার ফাঁকা বুলি না দিয়ে।

ক্লায়েন্ট নিজেও ফ্রিল্যান্সারদের দ্বারা প্রতারিত হবার আশঙ্কায় থাকেন। আপনার সততা তার ভরসা ও বিশ্বাস জয়ের প্রথম ধাপ হতে পারে। আরেকটি বিষয়, ক্লায়েন্টকে কখনোই কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা বা প্ল্যান জানানোর প্রয়োজন নেই। ক্লায়েন্ট জানতেও চান না। তিনি আপনার কাজ শেষে নেটে সার্চ দিয়ে তার ওয়েবসাইটটি চালাতে পারলেই সন্তুষ্ট হবেন। আগে থেকেই প্ল্যান জানালে ক্লায়েন্ট অনেকসময় টাকা বাঁচাতে একই প্ল্যান অন্য কাউকে দিয়ে কম খরচে করাতে চলে যান।

৩. নিজের কাজের সময় সম্পর্কে সচেতন থাকুন

যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং এর পুরো কাজটাই আপনার একার, তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্বও আপনার। যে সময়টা আপনি সোশ্যাল বা অনলাইন মার্কেটিংয়ে ব্যয় করছেন, টুইট করে বা ফেসবুকনির্ভর যে মার্কেটিং স্ট্র্যাটিজি সাজিয়েছেন, তা আসুলেই কি কাজে আসছে নাকি সময়ের অপব্যবহার হচ্ছে তা যাচাই করতে হবে।

এজন্য আপনি প্রতিদিন কোন কাজে কতটুকু সময় ব্যয় করছেন তার নোট রাখুন। তারপর সপ্তাহ বা মাসের শেষে মূল্যায়ন করুন এই কাজগুলো আপনার ঠিক কতজন ক্লায়েন্ট বাড়িয়েছে, আগের ক্লায়েন্টদের সাথে সম্পর্ক কেমন হয়েছে, দক্ষতা বেড়েছে নাকি এই সময়টাতে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করলে আপনার কাজের দক্ষতা ও মূল্যায়ন বাড়তো।

৪. কখন কাজ থামাতে হবে সেটাও জানা থাকা চাই

অনেকেই মনে করেন ফ্রিল্যান্সিং তো নিজের সময়মতো করার কাজ। কিন্তু আসলে তা নয়। ঘরে বসে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই ফ্রিল্যান্সাররা ব্যক্তিগত জীবন আর কর্মজীবনের বিভেদ ভুলে যান। যার প্রভাব শরীর, মন, জীবনযাত্রা এবং কাজের উপরও পড়ে। এর জন্যই ঘরে বা অফিসে, যেখানে বসেই কাজ করুন না কেন, কাজের সময়টা রাখুন নির্ধারিত। ব্যক্তিগত জীবন ও শ্রান্তি দূর করার সময়ও যেন জীবনে থাকে। ২৪ ঘন্টাই কাজের জন্য রাখলে আপনার পছন্দের কাজটিই আপনার একঘেয়ে ও ক্লান্তিকর লাগবে। যার সরাসরি প্রভাব দেখা যাবে আপনার কাজের গুণগত মানে।

কাজের মান বজায় রাখতে ব্যক্তিগত জীবন থেকে কাজকে আলাদা রাখুন, Image source: data:image/jpeg;base

৫. ধীরগতির ব্যবসার ফাঁদে পা দিবেন না

ফ্রিল্যান্সিং শুরুর সাথে সাথেই আয় করা কঠিন। যেহেতু ক্লায়েন্ট পাচ্ছেন না বা কম পাচ্ছেন, আপনি ভাবতেই পারেন যে মার্কেটিং, বিজ্ঞাপনে যে অর্থটা ব্যয় করছেন তা অতিরিক্ত এবং বন্ধ করা উচিৎ। হয়ত আপনি খরচ মেটানোর জন্য একটা পার্টটাইম চাকরীও খুজে নিয়েছেন। কিন্তু দেখা যাবে যেই বিজ্ঞাপনে খরচা করতে গিয়ে আপনি কার্পন্য করছেন, সেই বিজ্ঞাপন দিয়েই অন্য ফ্রিল্যান্সাররা ক্লায়েন্ট পাওয়া শুরু করবেন।

কিংবা যখন অবশেষে ক্লায়েন্ট আপনার সাথে যোগাযোগ করতে ফোন দিবেন বা মেইল করবেন তার উত্তর আপনি সময়মতো দিতে পারবেন না অন্য চাকরীর কারণে। শুরুর ধীরগতির কাজে গা ছেড়ে দিলে তা আরও ধীরগতির হয় যায়, কারণ এর প্রভাব আপনার কাজের দক্ষতার উপর পড়ে। তাই পুরো উদ্যমে লেগে থাকাই ফ্রিল্যান্সিং এ সাফল্যের মূলমন্ত্র।

ফিচার ছবি- entrepreneur.com

Written by Faria Abdullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

৭টি কৌশল যা আপনার ভিডিও এডিটিং দক্ষতাকে করবে আরও উন্নত

যে ৭টি বিষয় ফ্রিল্যান্সারদের না জানলেই নয়