যে ১০ টি গুণ ব্লগার হিসেবে আপনাকে করে তুলবে অনন্য

ব্লগিং এবং ভালো ব্লগিং এর পার্থক্য আমরা বুঝি কোনো ব্লগের বিষয়বস্তুর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখে। কিন্তু কিভাবে এত এত ব্লগারের মাঝে নিজের ব্লগকে অনন্য করে তুলতে পারবেন?

এর জন্য ১০টি বৈশিষ্ট্য আপনাকে অবশ্যই আত্মস্থ করতে হবে। যার মাধ্যমে আপনি সহজেই ব্যবহারকারীদের মনঃস্তত্ব ও তাদের চাহিদা বুঝতে পারবেন। তৈরী করতে পারবেন আকর্ষনীয় কন্টেন্ট। সেই সাথে প্রমোট করার নানা কৌশল আপনার ব্লগ ও ব্লগার হিসেবে আপনি হয় উঠবেন অনন্য।

ভালো ব্লগিংকে এখন শিল্প হিসেবেই দেখা হয়, ছবিসূত্রঃ encrypted-tbn0.gstatic.com

১. বাস্তব অভিজ্ঞতা

যে বিষয়ে আপনার ব্লগ, সে বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান, ধারণা ছাড়াও আপনার যদি সে বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে আপনি ব্লগার হিসেবে চমৎকার সব কন্টেন্ট তৈরী করতে পারবেন সহজেই। ব্লগে আপনি আপনার নিজের অভিজ্ঞতাগুলোকেই অসাধারণভাবে তুলে ধরতে পারেন। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া ও বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে ব্যবহারকারীদের সাথে আরো গভীর সম্পর্ক তৈরী হওয়ার মতো বিষয় তো আছেই।

ছাদ বাগানের উপর বই দেখে হয়ত যে কেউই লিখতে পারবে। কিন্তু আপনার নিজের ছাদ বাগান, তার পরিচর্যা, বেড়ে ওঠার গল্প এমন বাগান করতে গিয়ে আরও কত মানুষকে জানলেন, জানালেন সেসব অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে আপনি যখন লিখবেন, তখন আপনার নিজস্বতায়ই আপনি হবেন অন্যদের থেকে আলাদা।

২. উত্‍সাহ

আপনি যে বিষয়েই লিখুন না কেন সে বিষয়ের প্রতি যদি আপনার আগ্রহ বা ভালোবাসা কাজ না করে তা অবশ্যই আপনার লেখায় ছাপ ফেলবে। আপনার লেখার বিষয়বস্তুতে আপনার নিজেরই যদি আগ্রহ কাজ না করে তবে পাঠক বা ব্যবহারকারীদের কি করে আগ্রহী করবে? উদাহরণস্বরূপ- ভ্রমণ অভিজ্ঞতার টুকিটাকি আনাচে কানাচে সবকিছুর প্রতি একজন ব্লগার যখন নিজের উত্তেজনা, ভালোবাসা থেকে লিখছেন তার সাথে অনায়াসেই অন্যান্য ভ্রমণপ্রেমীরা সংযোগ স্থাপন করতে পারে।

৩. লেখার পূর্ব অভিজ্ঞতা

যার আগেই লেখালেখিতে হাত পোক্ত তিনি জানবেন শব্দচয়নে কিভাবে পাঠকের মনকে লেখার মধ্য দিয়েই বাস্তবতার স্বাদ দেওয়া যায়। কিভাবে আকর্ষনীয় শিরোনাম দিয়ে পাঠকের মনযোগ কাড়া যায়। ভাষার, ব্যকরণের শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল ব্যবহারে যেকোনো ব্লগ হয় উঠে উঁচুমানের ও কদরের। তাই লেখার অভ্যাস ও স্বভাবতই লেখিয়ে যারা তারা অতি সহজেই পাঠকের কাছে ভালো ব্লগার হিসেবে পরিচিতি পেতে পারেন।

৪. লেখা পরিকল্পিত ও সংগঠিত হতে হবে

ব্লগের যেকোন কাজ পরিকল্পনা করে নিলে কাজের মান ভালো হয়, ছবিসূত্রঃdata:image/jpeg;base

একজন চমৎকার ব্লগারের কাজ সবসময়ই হবে সুসংগঠিত। ব্লগিং কে নিজের ক্ষুদ্র বা অনলাইন ব্যবসা কিংবা সপ্তাহের চাকরীর মতই গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনামাফিক কাজ সাজাতে হয়। বিশেষত যখন আপনি একাধিক ব্লগের জন্য একইসাথে লিখছেন। নতুন নতুন আইডিয়া খুঁজে বের করা, লেখার সময়, ব্লগের প্রমোশন এই সব কিছুর জন্যই পরিকল্পনা ও রুটিন করে কাজ করতে হবে।

তাড়াহুরড়ায় বানানো কন্টেন্ট বা লেখা কখনোই অন্য ব্লগারদের সাথে মানের দিক থেকে পাল্লা দিতে পারেনা। দৈনন্দিন কাজের চাপে আপনার সাধের ব্লগটির মান যেন অবহেলিত না হয় তার জন্য সংগঠিতভাবে, গুছিয়ে কাজ করতে হবে।

৫. কাজে নৈতিকতা

কাজে শক্ত নৈতিকতা একজন ভালো ব্লগারকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারে। রুটিনমাফিক লেখা, নিজের লক্ষ্য ও আকাঙ্খাকেও ছাড়িয়ে যাবার চেষ্টা যেকোনো ব্লগারকে করে তুলে অন্যদের চেয়ে অনন্য। বেশিরভাগ সময়ই ব্লগাররা নিজেরাই নিজেদের ব্লগের জন্য লেখেন। এক্ষেত্রে সরাসরি অর্থলাভের বিষয়টি কমই আসে। তাই ব্লগারদের নিজেদেরই উদ্যমী হতে হয় নিজের কাজের মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য।

৬. নেটওয়ার্কিং বা সম্পর্ক তৈরী

আপনি একজন ব্লগার হিসেবে যত ভালো কন্টেন্টই বানান না কেন, তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে প্রচারণার কাজ আপনাকে করতেই হবে। যখন অন্যান্য ব্লগার বা ব্লগিং শিল্পকে প্রভাবিত করতে পারে এমন ব্লগারদের সাথে আপনার ভালো কাজের সম্পর্ক থাকবে, তারাই আপনার কন্টেন্টের প্রমোশনে হয় উঠবেন সহায়ক।

৭. এসইও সম্পর্কিত জ্ঞান

এসইও সম্পর্কিত টুকটাক জ্ঞান আপনাকে যেকোন ভালো ব্লগারের থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে একজন চমৎকার ব্লগার এর সুনাম এনে দিবে। যেসব ব্লগাররা মূল শব্দ ধরে খোঁজা, কন্টেন্ট প্রমোশন, এবং প্রতিটা  কন্টেন্টের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ করার প্রতি গুরুত্ব দেন, নিঃসন্দেহে তারা কম সময়ে বেশি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

এসইও এর জ্ঞান থাকলে নিজেই নিজের ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন করতে পারবেন, ছবিসূত্রঃ data:image/jpeg;base

৮. স্রোতের বিপরীতে ভাবতে জানা

ব্লগিং খুবই প্রতিযোগিতামুলক একটি ক্ষেত্র তাই এখানে অনন্য হবার কাজটাও খুব সহজ নয়, প্রতিনিয়ত অন্যের চেয়ে কিভাবে ভিন্নধর্মী কন্টেন্ট তৈরী করা যায়, কিভাবে সেটাকে অভিনব উপায়ে উপস্থাপন ও প্রমোট করা যায় তা নিয়ে একজন ব্লগারকে ভাবতে হয়। স্বকীয়তা বজায়ে রেখে গতানুগতিকতার বিপরীতে ভাবতে না জানলে একজন ব্লগার লাখো ব্লগারের ভীড়ে হারিয়ে যান

৯. হতে হবে সামাজিক প্রজাপতি

ব্লগিং বিষয়টা পুরোপুরিই বলতে গেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্ভর হয় উঠেছে আজকাল। ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন কিংবা অন্য কোনো ব্লগারের সাইটে সরব উপস্থিতি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সাহায্য করে। ডিগ বা রেডিটের মত সোশ্যাল বুকমার্কিং সাইটগুলোও হতে পারে নিজের ব্লগকে নজরে আনার ভালো পরিসর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব থেকে বাড়াতে পারেন নিজ ব্লগের পরিচিতি, ছবিসূত্রঃ www.lovepanky.com

১০. সাহায্য করতে ভালোবাসতে হবে

ব্লগিং শিল্প গড়ে উঠেছে এবং টিকে আছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চর্চার উপর ভর করে। অনেকেই ব্লগ লিখেন কোনো বিষয়ে তার অঢেল জ্ঞানকে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে বা জাহির করতে। কিন্তু এটাই ব্লগিং এর একমাত্র কারণ যেন না হয়। কারো সুন্দর, গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য বা আপনার কন্টেন্ট শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ জানানোর চর্চা রাখতে হবে। সেইসাথে অন্যের ভালো কন্টেন্টের প্রশংসা ও উৎসাহ প্রদানেও হতে হবে আন্তরিক।

ফিচার ছবি- patientpop.com

Written by Faria Abdullah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওয়েব ডেভলপমেন্ট শেখার খুঁটিনাটি

পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে সফল সোশ্যাল মিডিয়া কনসালটেন্ট হোন